জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে বেড়াই পার্ট ৭

আপনাকে ঘিরে তাঁর অনেক প্লেন, অনেক স্বপ্ন
আপনি যখন ভুমিস্ট হয়েছিলেন তখন তিনি আপনার সাথেই ছিলেন, আপনি হয়ত খেয়াল করেন নি, তিনি তখন চোখের আড়ালে মুচকি হাসছিলেন
আপনাকে তিনি এই পৃথিবীতে দেখতে চেয়েছেন দেখেই আপনি এখন পৃথিবীর বুকে ঘুরে বেরাচ্ছেন
আপনাকে উনার সৃষ্টি করার কোন প্রয়োজন ছিল না, তবুও করেছেন একান্তই নিজ খুশিতে
এই সত্যটি যেদিন বুঝতে পারবেন সেদিন আর নিজেকে আনইম্পরটেন্ট বা তুচ্ছ মনে হবে না, কারন আপনার অস্তিততই ঘোষণা দিচ্ছ যে আপনি একজন ইম্পরটেন্ট বেক্তি
আপনার সৃষ্টিই হোল তাঁর খুশির জন্য। অতএব বলা যায়, তাঁর খুশি মত জীবন অতিবাহিত করাটাই হোল আপনার জিবনের অন্যতম উদ্দেশ্য!
তিনি খুশি হন এমন কাজ গূলোকেই সাধারণত্ব ইবাদাহ বলা হয়ে থাকে
ইবাদাহ কি বা এর বিন্নাস কত প্রকার? এই বিস্লেশন এর পরিধি বিশাল, এই অধ্যায়ে আমরা কেবল এর মুল নির্যাসটি বুঝার চেষ্টা করবো।
এন্থ্রপলজিস্ট্ররা বলে থাকেন ইবাদাহ হোল একটা ইউনিভেরসাল আরজ বা সার্বভমিক তাড়না, অর্থাৎ আমাদের জন্ম সুত্রেই এই আকাঙ্ক্ষা বিলট ইন।
তিনি নিজেই ঘোষোণা দেন
“আল্লাহর যিকির দ্বারাই একমাত্র অন্তর সমূহ শান্তি পায়” [১]
আমরা যখন তাঁর ইবাদাহ থেকে দূরে সরে যাই তখনি সেই শুন্যতা, সেই অপুরনতাঅন্য কিছু দিয়ে পুরন করতে বেস্ত হয়ে পরি।
কারো কাছে ইবাদাহ মানে রুকুর আগে হাত তুলা, কারো কাছে ইবাদাহ মানে একটা নির্দিষ্ট উপায়ে কাপড় পরিধান করা, কারো কারো কাছে ইবাদাহ হোল একটা নির্দিষ্ট স্টাইলে নামাজ পরা, আবার কারো কারো কাছে ইবাদাহ হোল একটা নির্দিষ্ট টিউনে তেলাওাত করা।
হতে পারে উপরের বিষয়গুলোতে ইবাদাহর কিছু এলিমেন্ট অন্তরভুক্ত আছে তবে আগের পর্বেই বলেছি ইবাদাহর পরিধি আরও বিশাল।
সাধারণত্ব দেখা যায়, আপনি যেই দেশে বা এলাকায় বড় হয়েছেন তাঁর উপর ভিত্তি করেই আপনার মাজহাব নিরনয় হয়ে যায়। মনে রাখবেন, ইবাদাহ শুধু নির্দিষ্ট কোন মাজহাবে সিমিত নয়!
হাত পেটে বাধলেন কিংবা বুকে, তাঁর থেকেও অধিক ইম্পরট্যান্ট হোল আপনার নামাজে একাগ্রতা কত টুকু, আবেগ কতটুকু এবং স্রষ্টা দেখছেন এই উপলব্দধি ও বিশ্বাস কতটুকু।
ইবাদাহ শুধু পার্ট টাইম টাস্ক লিস্ট নয়, এটি ২৪/৭ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস
তিনি পরিষ্কার বলে দিয়েছেন
“হে ঈমানদারগন! তোমরা পরিপূর্ণ ভাবে ইসলামে প্রবেশ করো” [২]
৫০% না এমনকি ৯৯%ও না, ১০০%!
অর্থাৎ শুক্রবার জুম্মাতে জাওয়াটাই শুধু ডিউটি নয়, আমাদের আদেশ করা হয়েছে সূর্য উঠার আগ থেকে এবং সূর্য উঠার পর পর্যন্ত, রাতের শুরু হতে রাতের শেষ পর্যন্ত ইবাদতে থাকার!
ভয় পাওার কিছু নেই, এটা খুবি সহজ।
আপনার ঘুম থেকে উঠা থেকে অফিসে যাওয়া অথবা সুপার শপে হেটে বেড়ান প্রতিটি আওার আপনি চাইলেই সহজে “ইবাদাহ আওওারে” কনভার্ট করতে পারেন।
আপনাকে শুধু আপনার টাস্ক গুলো তাঁকে কেন্দ্র করে চিন্তা করতে হবে , এমন ভাবে টাস্ক গুলো এক্সিকিউট করতে হবে যেন আপনি জানেন যে তিনি আপনাকে দেখছেন।
উদাহরনঃ
ঘর থেকে বের হলেন, তাঁর নাম নিয়ে বের হন,
হেঙ্গউট করে ফাস্ট ফুড খাছেন, তাঁর নাম খাবার টা শুরু করেন
বাইক বা গারি স্টার্ট দিচ্ছেন? তাঁর নামে স্টার্ট নেন
বাথ্রমে গেলেন? তাঁর নাম নিয়ে যান
ঘুম থেকে উথলেন? উঠেই বলে ফেলেন থাঙ্ক ইয়উ আল্লাহ
অফিসে কাজ শুরু করছেন? তাঁর নাম নিয়ে মেইল ড্রাফ্‌ট করুন
মাঝে মাঝে বিশাল আকাশে তাকিয়ে বলে উঠুনঃ আহ! কি সুন্দর তোমার সৃষ্টি!
অর্থাৎ প্রতিটি কাজে তাঁকে ইনভল্ভ করুন, অটোমেটিকালি সেই কাজ গুলো ইবাদাহ আওারে কনভার্ট হয়ে যাবে!
ইউটিউবে যেমন লাইফ হেক পাওয়া যায়, উপরুক্ত টিপস গুলকে বলতে পারেন ইবাদাহ হেক
সহজ কোথায়, ইবাদাহ হোল একটা লাইফ স্টাইল।
মনে প্রানে উঠতে বসতে সজ্ঞানে তাঁর চিন্তা, তাঁর প্রেসেন্স উপলব্ধি বা উপভগ করাটাই হোল ইবাদাহ
মনে পরে,
ইউনিতে যখন প্রথম প্রেমে পরি
প্রথম কয়েকটা দিন বেশ ঘোরের মধ্যে ছিল,
উঠতে বসতে, খেতে – ঘুমাতে, বাসে, রিকশায় ঐ একটা কথাই সব সময় মাথায় ঘুরত। কোন ভাবেই যেন এটা কন্ট্রোল করা যাচ্ছিলোনা।
আনমনে কথা বলতাম, তাঁর কথা ভাবতাম, তাঁর কি কি কি জিনিস ভালো লাগে সেটা জানার চেষ্টা করতাম।
সেটা থেকে উপলব্ধি, লাস্ত ইবাদাহ হেক
কোন ভাবে একবার তাঁর প্রেমে পরে যান
দেখবেন সর্ব অবস্থায় সর্ব স্থানে মনের অজান্তে তাঁর কথাই বার বার ঘুর ঘুর করছে
আর আপনি তাঁর ভাবনায় মগ্ন হয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁরই চিন্তাতেই বিভর আছেন!
রেফেরেন্সঃ
[১][কুরআন ১৩ঃ২৮]
[২] কুরআন ২ঃ২০৮
Share: