জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে বেড়াই পার্ট ৮

“হেন্ডস আপ! “কেউ নড়বেন না!” সারেন্ডার!”
অতঃপর অপরাধিদের আত্মসমর্পণ
সারেন্ডার মানেই যেন আপনি অপরাধি!
অপরাধি হতে কে পছন্দ করে?
সারেন্ডার তাই আমাদের কাছে এক অপ্রিয় শব্দ, কারন দিন শেষে আপনি এক অপরাধি
ছোট থেকেই শুনে এসিছি,
হার মানবে না, মাথা নত করবে না, জিততেই হবে
জিতাটাই যেখানে মুক্ষ, সারেন্ডারের তো প্রশ্নই আসে না, কারন সারেন্ডার মানেই তো হেরে যাওয়া
তবে সব সারেন্ডার হেরে যাওয়া নয়,
স্রষ্টার কাছে সারেন্ডার করা হোল এক বিজয় সূচনা
অপরাধি হিশেবে নয় , বরং সেখানে সারেন্ডার হোল ভালবাসার কাছে ভক্তির কাছে, স্রদ্ধার কাছে, স্রষ্টার কাছে!
সেখানে সারেন্ডার মানে হেরে যাওয়া নয়, কিংবা অদৃশ্যের কাছে অলস ভাবে ছেঁড়ে দেয়াও নয়।
সারেন্ডার হল অসীম শক্তির কাছে নিজেকে সঁপে দেয়া
সারেন্ডার কোন কাপুরুশতা নয়, কারন ইতিহাস সাক্ষি, যারাই তাঁর কাছে সারেন্ডার করেছেলেন তাদেরকে দিয়েই তিনি বড় বড় যুদ্ধ জয় করিয়েছিলেন! বড় বড় চেঞ্জ এনেছিলেন (শান্তি বাস্তবায়নের জন্য)
তিনি সারেন্ডারড মানুষদের কাজে লাগান যেমন কাজে লাগিয়েছিলেন মারিয়াম (আস) কে দিয়ে। তিনি তাঁকে এই জন্য চয়েস করেননি যে তিনি সুন্দরি বা ভালো বংশের মহিলা ছিলেন বরং এ জন্য করেছিলেন কারন তিনি নিজেকে পুরপরি নিজেকে তাঁর কাছে সারেন্ডার করেছিলেন
অর্থাৎ সারেন্ডার হোল বীরের গাথা, যুদ্ধে যাওয়ার আগে ওয়ারিওর এটিচুড
সারেন্ডার মানে আপনার বুদ্ধির বলিদান করে অন্ধ ভক্তিও নয়। তিনি আপনাকে চিন্তা শক্তি দিয়েছেন চিন্তা করার জন্য। সারেন্ডার হোল আপনার ক্ষুরধার চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে জটিল সমীকরণের সহজ সমাধান বের করা।
অর্থাৎ সারেন্ডার কোন বোকার ডিসিশন নয় বরং একটি রেসনাল এবং ইনটেলিজেন্ট ডিসিশন।
আর এই অসীম সত্তার অসীম ভালোবাসার কাছে সঁপে দেয়া বা সারেন্ডার করাটাই তো ইবাদাহ
তাহলে আমরা কেনও তাঁর কাছে সারেন্ডার করি না?
খেয়াল করলাম, দুটো বিষয় সাধারনত আমাদের কে সারেন্ডারড হতে বাধা দেয়,
এক, ট্রাস্ট [বিশ্বাস বা ভরসা] আর
দুই, ইগো [অহংকার]
প্রথমেই আসি ট্রাস্টেঃ
প্রশ্ন, আমরা কি তাঁর উপর আসলেই ট্রাস্ট বা ভরসা রাখতে পারি? নাকি শেষ সম্বল হিসেবে বেকাপ রাউট হিসেবে তাঁকে উঠিয়ে রেখেছি?
আপনি যদি তার উপর ভরসাই না করতে পারলেন তাহলে তাঁর কাছে সারেন্ডার করবেন কি করে?
আপনি তাঁর উপর তখনি ভরসা করতে পারবেন যখন তাঁকে ভালো করে চিনতে পারবেন ও তাঁর বিষয়ে জানতে পারবেন!
এটা নরমাল হিউমেন সাইকলজি।
তাঁর বিষয়ে তো আমাদের মদ্ধে শত শত ভুল ধারনা,
যেমন,
তিনি অত্যন্ত ডিসট্যান্ট এক সত্তা, যিনি সাত আসমান দূরে কয়েক লক্ষ পরদার আরালে লুকাইত, যিনি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ঝঞ্ঝাট থেকে বেখেয়াল, আমাদের সমস্যা তিনি বুঝবেন কি করে?
অথচ তিনি জানিয়েছেন,
তিনি আমাদের মনের গপন কথা সম্পরকেও অবগত কেননা তিনি আমাদের ঘাড়ের শাহি শিরার থেকেও কাছে [১]
আবার জানিয়েছেন,
তিন জন বেক্তি যখন গপনে কথা বলে তখন তিনি চতুর্থ বেক্তি হিশেবে বর্তমান! আর যখন ৫ জন বেক্তি গপনে কথা বলে তখন তিনি সেখানে ষষ্ঠ হিসেবে বর্তমান! [২]
অর্থাৎ তিনি সব সময় আমাদের সাথেই আছেন এবং তিনি আমাদের প্রতিটি ডাক শুনছেন [৩]
তবে প্রশ জাগতেই পারে, কই কত ডাকলাম তিনি তো কিছু শুনলেন না!
এর উত্তরও তিনি বলে দিয়েছেন
আমার সেবক আমার বিষয়ে যেমনটা ভাববে আমাকে সে ঠিক তেমনি পাবে ! [৪]
অর্থাৎ ভরসার মত ভরসা করতে হবে
ইব্রাহিম [আ] এর ঘটনা কে কেস স্টাডি হিসেবে বুঝিয়ে দিয়েছেন কি ভাবে ভরসা করতে হবে!
তিনি খা খা মরুভুমির মাজখানে বউ আর বাচ্চা ফেলে দিয়ে এসে দুয়া করেছিলেন
হেয় আমার প্রতিপালক এই জায়গাকে তুমি নিরাপদ বানিয়ে দাও আর এতে ফল্মুলে দিয়ে ভরপুর করে দাও! [৫]
আমি মিশরের খা খা মরুভুমির প্রান্তে দারিয়ে এই দুয়া করার সাহস পাই নাই!
তিনি পেরেছিলেন!
আরেকটি ভারন্ত ধারনা,
তিনি অত্যন্ত রাগি এক সত্তা, যিনি আমাদেরকে সাস্তি দেয়ার জন্য অত পেতে বসে আছেন!
অথচ তিনি সেই স্রষ্টা যার নামের উৎপত্তিই হোল আলোহা থেকে যার শাব্দিক উতপত্তি হলো “তীব্র ভালোবাসা”,
সেই সত্তা যার কিতাবের ৯৯.১% চেপটার শুরু হয়েছে এই বলে যে তিনি অত্যন্ত দয়ালু ও মেহেরবান!
সেই সত্তা যিনি এক ইহুদি পতিতাকে মাফ করে দিয়েছেন শুধুমাত্র একটা কুকুরের প্রতি ভালোবাসা দেখিছিলেন দেখে! [৬]
সেই সত্তা যিনি বারবার ঘোষণা দেন তিনি ক্ষমাশীল এবং
সেই সত্তা যার শ্রেষ্ঠতম রাতে এই বলে দুয়া করতে শিখিয়েছেন যে
হে আল্লাহ, তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা তুমি ভালোবাসো , তাই প্লিস আমায় ক্ষমা করে দাও! [৭]
আসলে উনার এই ইমেজ আমরাই তোঁরই করে এসেছি নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য, অনন্যার উপর বারাবারি করার জন্য।
আমার ভুলে যাই যে তিনি একজন লাভার, তিনি ভালবাসতে ভালবাসেন
আপনি যতই তাঁকে চিনবেন এবং যত তাঁকে জানবেন তখন ভুঝবেন কি অসীম তাঁর ভালোবাসা
এবং তখন আপনার তাঁর কাছে সারেন্ডার করা তত সহজ হবে
এই ভরসা বা ট্রাস্টই হলো সারেন্ডারের আসল উপাদান।
এবার আসি দ্বিতীয় বাধায়, অহংকার বা ইগো
আমাদের স্বীকার করতে গায়ে লাগে যে আমাদেরকে লিমিটেশন দিয়ে পাঠানো হয়েছে, আমরা ভুলে যাই যে সব কিছুর কন্ট্রোল আমাদের হাতে নেই
সারেন্ডার হোল জীবনের এক পর্যায়ে এসে রিয়ালাইজ করা যে আপনার ইগো সব সময় জীবনের চাকা চালাতে পারে না, কারন এগিয়ে যাওয়ার পুরো মেপ খানা আপনার হাতে নেই, রিয়ালাইজ করা যে জীবনে দরকার নতুন ট্যাগ টিম পার্টনার বা এক অজেও জয়েন্ট ফরস।
শুধু স্বীকার করে নিন আপনি দুর্বল এবং আপনারও সাহায্যের প্রয়োজন আছে তারপর এমন এক সুপার পাওয়ার এর কাছে নিজেকে সারেন্ডার করে দিন যিনি কিনা আপনার বন্ধু হওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছেন
আমরা প্রত্তেকেই প্রতি নিওত কোন না কোন কিছুর কাছে সারেন্ডার করছি, আপনাকে বানানই হয়েছে এই দুরবলতা দিয়ে কোন না কোন কিছুর কাছে সারেন্ডার করতেই হবে।
কেউ অর্থের কাছে কেউ ভিতির কাছে অথবা কেউ অশ্লিল এন্টারটেইন্মেন্টের কাছে
মনে রাখবেন, আপনি কার কাছে সারেন্ডার করছেন সেটা আপনার ডিসিশন , তবে যেটাই চুস করেন না কেন তাঁর কন্সিকউএন্সও আপ্নাকেই নিতে হবে
সম্প্রতিকালের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পেরেছি, তাঁর কাছে সারেন্ডার করা শুধু সবচেয়ে ভালো উপায়ই না বরং একমাত্র উপায়
কারন অন্য সব কিছুতেই আপনি হয়ত সামইক বিনদন পেতে পারেন তবে লং রানে তা শুধু হতাশা আর ডিপ্রেসনিই ডেকে আনবে
এই অষ্টম পর্বে এসে একটা বিষয় ক্লিয়ার, ইবাদাহর মুল হৃদয় হলো সারেন্ডার, টোটাল সারেন্ডার
কি করে বুঝবেন আপনি তাঁর কাছে সারেন্ডার করতে পেরেছেন?
আপনি তাঁর কাছে সারেন্ডার করলেন কি করলেন না তা বুঝা যাবে আপনার আনুগত্তে, আপনার “ইয়েস বস” এটিচুডে।
আপনি যদি সারেন্ডার করেন তাহলে তাঁর রিকুএস্ট হবে আপনার কমান্ড
সেবক হিসেবে অবাধ্য হওয়াটা হবে তখন সাঙ্ঘরসিক।
সারেন্ডার মানুষরা তাঁর আদেশের প্রতি সব সময় অনুগত্ত হয় এমনকি যখনতা মেক সেন্স করে না, তখনও
হজরত আলি (রা) সুন্দর করে বলেছেন
ধর্মের সব কিছু যদি মতবাদ দিয়ে বোঝা যেত তাহলে মাসেহ করার বিষয়টি মোজার উপর দিয়ে না হয়ে নিচেই হত। [৮]
সারেন্ডার কেন করবেন?
সারেন্ডারের সব থেকে বড় পাওয়া হোল ইন্টারনাল পিস আর ইন্টারনাল পাওার
নিজেকে যদি একবার তাঁর কাছে সারেন্ডার করে দিতে পারেন তাহলে আপনার লাইফে আমুল পরিবরতন আসবে
বাড়বে শান্তি বারবে কনফিডেন্ট
তবে মনে রাখবেন সারেন্ডার শুধু এক কালিন পারচেস অর্ডার নয়, আপনাকে প্রতি নিয়ত এটাকে রিনিউ করতে হবে, ডেইলি হেবিটে আনতে হবে
তাই আবারো বলছি সব কিছু তাঁর হাতে সঁপে দিন
আপনার প্লেন, আপনার স্বপ্ন, আপনার আম্বিশন, আপনার অতিত অপকরম, আপনার দুরবলতা, আপনার ভিতি কিংবা আপনার অহংকার, সব কিছু।
যদি নিজেকে তাঁর প্লেনের উপযোগী করে তুলতে চান তাহলে সরে গিয়ে তাঁকে ড্রাইভিং সিটে বসিয়ে নিজে জার্নিটা এঞ্জয় করুন
আমরা যারা নিজেদের মুসলিম বলে দাবি করি তাঁরা কি জানি যে এই মুসলিম শব্দের শাব্দিক অর্থ কি?
এর শাব্দিক অর্থ হোল আত্মসমর্পণকারী বা সারেন্ডারকারী!
মনে রাখবেন,
যে মুহূর্তে নিজেকে সারেন্ডার করার ডিসিশন নিবেন সেই ডিসিশন কে টেস্ট করা হবে।
টেস্ট করা হবে কিছু মেজর চেঞ্জ দিয়ে, বিলম্বিত প্রতিশ্রুতির দিয়ে, ইম্পসিবল প্রবলেম দিয়ে, উত্তরবিহিন দুয়া দিয়ে, অযাচিত ইন্সাল্ট দিয়ে অথবা অনাকাঙ্খিত ঘোটনা দিয়ে [৯]
তবে ধৈর্য রাখুন, ইগো হাটিয়ে বিশ্বাস রাখুন
বিজয় আসবেই!
রেফেরেন্সঃ
[১] কুরআন ৫০ঃ ১৬
[২] কুরআন ৫৮ঃ৭
[৩] কুরআন ২ঃ১৮৬
[৪] হাদিসে কুদসি ১৫
[৫] কুরআন ২ঃ১২৬
[৬] সাহি মুসলিম ২২৪৫ বি
[৭] সুনান ইবনে মাজা ৩৮৫০
[৮] সুনান আবি দাউদ ১৬২
[৯] কুরআন ২ঃ১৫৫
বিঃ দ্রঃ
বেশ কিছু কাল আগে তাঁর সাথে একটা লিখিত এগ্রিমেন্ট সাইন করেছিলাম,
“আমি তোমার সেবক এবং পুরপরি তোমার কাছে সারেন্ডার করলাম”
যখনি টেস্ট গুলো কঠিন হয়ে দাড়ায় সেই এগ্রিমেন্টটি এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগায়
Share: