তিনি কি আমাকে ক্ষমা করবেন?

কখন কল ছেরে পুরো ঘর ভাসিয়ে দিল
কখন সদ্য কিনে আনা খেলনাটি স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খুলে টুলে বারটা বাজিয়ে দিল
কখন মধ্যকার্সন শক্তি কিভাবে কাজ করে বারান্দা দিয়ে দাদার জুত ফেলে পরীক্ষায় লেগে পরল
আবার কখন পিশি করে বতলে ভরে ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখল
দুষ্টমি বলেন আর ক্রিয়েটিভিটি বলেন, একটা সময় গিয়ে আপনার ধইরজের বাঁধ ভাংবেই
শত মানা সত্ত্বেও যখন একি অন্যায় বার বার ছেলে করতে থাকে তখন আর কন্ট্রোল হয় না, এক সময় গিয়ে সেটা আউট বারস্ট হবেই
তবে ছেলে আমার বেশ পারদর্শী,
খুব সুন্দর ভাবে টেকেল দেয়
নিমিসের মাঝে এসে দু হাত ধরে, চোখ ছল ছল করে বলবে
আব্বাঃ আই আম সরি, ভুল হয়ে গিয়েছে, সত্যি, প্লিস মাফ করে দাও
তারপর হ্রিদয় গোলান এক হাগ দিয়ে চুপচাপ বুকের ভিতর কিছুক্ষণ ঢুকে থাকবে
এই পরিস্থিতিতে বেরহম দিলও রহমে বিগলিত হয়ে উঠে!
আর ঠিক তখন, মনের কোনে আশা জেগে উঠে এই ভেবে যে,
যার নামের উৎপত্তিই স্বয়ং এই রহম থেকে, যিনি রহমান, যিনি রহিম, না জানি কি অসিম ভালবাসা নিয়েই আমাদের অনুশুচনার অপেক্ষায় আছেন!
প্রয়োজন শুধু একবার তার কাছে চোখ ছল ছল করে ক্ষমা চাওয়া, একবার শুধু তাঁকে অনুতপ্ত হয়ে জেনুইনলি সরি বলা!
আশা জাগে এই ভেবে যে, আমি যদি তার কাছে এভাবে নরম হয়ে একবার চোখ ছল ছল করে ক্ষমা চাই, তিনি কি ক্ষমা না করে কি থাকতে পারবেন?
আমরা যেহেতু সহজে কাউকে ক্ষমা করতে পারি না তাই ভাবি তিনিও বোধয় আমাদেরকে ক্ষমা করেত পারেন না।
মনে পরে এক কলিগের কথা। সে একদিন এসে প্রশ্ন করলেন
আচ্ছা ভাই, আল্লাহ আমাকে কেন মাফ করবেন? যেখানে আমি নিজেই নিজেকে মাফ করতে পারছি না!
আই মিন, মাসের পর মাস শত প্রমিস পরেও একি ভুল বার বার করে যাচ্ছি!
বল্লাম
আপনার রব কি বলেছেন, জানেন?
“যারা অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে। তারপর শীঘ্রই তাওবা করে। আল্লাহ এদের তাওবা কবুল করবেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও বিচক্ষণ ।” [১]
ভাই তর্ক শুরু করেন দেন
দেখছেন ! আয়াতে বলা হয়েছে যারাই শুধু “অজ্ঞতা” বসে খারাপ কাজ করেছে তাদেরকেই তিনি মাফ করবেন! আমিতো আর অজ্ঞ ছিলাম না , জেনে বুঝে সজ্ঞানে খারাপ কাজ গুলো করেছি, তাহলে কি তিনি আমায় ক্ষমা করেবেন?
বললাম,
ভাই, তাফসিরে এসেহছে অজ্ঞ হোল সেই বেক্তি যে বুঝে বা না বুঝে খারাপ কাজ করে বা করতে থাকে যতক্ষন পর্যন্ত না সে সেটা বর্জন করে!
আরও এসেছে, যে কেউ যে কোন খারাপ কাজ করে, তা আসলে অজ্ঞতা বসেই করে
তাঁর পাল্টা তর্ক,
আরে ভাই দাঁড়ান , এখানে বলা হয়েছে যে, যে বেক্তি সাথে সাথে অনুতপ্ত হবে এবং ক্ষমা চাইবে তাদেরকেই তিনি ক্ষমা করবেন!
আমি তো বছরের পর বছর খারাপ কাজ করে পার করে দিলাম কখনো তো আর সাথে সাথে ক্ষমা চাইনি। তাহলে?
বললাম,
ভাই সাথে সাথে সাথে বিসয়টি একটু বুঝা দরকার
বিখ্যাত আলেম হাসান বাস্রি বলেছেন, মৃত্যু আসার আগ পর্যন্ত হোল এই “সাথে সাথে” থাকার সামিল।
আরও বললাম
তিনি নিজে ঘোষণা দিচ্ছেন
হে আমার বান্দারা, তোমরা যারা গুনাহ করতে করতে নিরাশ হয়ে গিয়েছ, হতাশ হয়ও না, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিব, কারন আমি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু [অনুতপ্ত হয়ে ক্ষমা চাইলে] [২]
হাদিসে কুদসিতে বলেন
“বান্দা, তুমি এগিয়ে আসলে আমিওএগিয়ে আসব, তুমি হেটে আসলে আমি দৌড়ে আসব, তুমি যদি পৃথিবী পরিমান পাপ নিয়েও আমার সামনে হাজির হোও আমি তার থেকেও অথিক পরিমান ক্ষমা নিয়ে তোমার সামনে হাজির হব। [৩]
তাই যখনি প্রশ্ন আসবে,
তিনি কি আমাকে গ্রহণ করবেন? বা
তিনি কি আমাকে ক্ষমা করবেন?
জানবেন , এগুলো আসলে আমাদেরই মনগড়া মেন্টাল মডেল এবং এটি শয়তানের একটি ট্রেপ, যেন আপনি আর কখনোই তাঁর কাছে ফিরে না যান!
মনে রাখবেন,
তিনি সেই সত্তা যিনি কিনা কেবল ১% ভালবাসা আমাদের মাঝে বণ্টন করেছেন যার ফলস্রুতিতে আমরা আমাদের সন্তানদের প্রতি এই তিব্র মমতা অনুভব করি! আর বাকি ৯৯% যা তিনি আমাদেরকে ভালবাসার জন্য নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন তাঁর তিব্রতা কতটুকু হতে পারে তা কি কল্পনা করতে পারেন!
তাই বলছি,
আজই সব লজ্জা বা ইগো তেগ করে মাফ চান। ফিরে আসেন। প্রশ্ন করেন, ক্ষমা চাইতে বা ফিরে আস্তে আজ আমাকে আর আর কোন কোন এক্সকিউস বাধা দিচ্ছে?
আরবিতেই আস্তাগফিরুল্লাহ বলতে হবে এমন কোন কথা নাই, চোখ ছলছল করে বলে একটু দেখুনি না
আল্লাহ আই এম সরি, প্লিস আমায় মাফ করে দাও, কথা দিলাম…
রেফারেন্সঃ
[১] কুরআন ৪ঃ১৭
[২] কুরআন ৩৯ঃ৫৩-৫৪
[৩] সহি মুসলিম ২৬৮৭
Share: