উনি তো দেখতেছেন!!! তাই না?
মাইকেল এঞ্জেলো যখন সিস্টিন চেপেল এর সিলিং আঁকা শেষ করলেন, দেখা গেলো সিস্টিন চেপেলের কোনায় কোনায়ও তিনি নিখুঁত ভাবে কাজ সম্পন্ন করেছিলেন। কাজের বেপকতায় তিনি প্রায় অন্ধ হতে বসেছিলেন!
যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, এই কানা কন্চিতেও এতো এফোর্ট দেয়ার কি দরকার ছিল, এখানে তো কেউ দেখবে না? তার উত্তর ছিল সিম্পল, আঙ্গুল উপরে তাক করে বলেছিলেন:
“কারণ উনি তো দেখতেছেন!!! তাই না? (১)
আজ এরকমই একটি চমৎকার ঘটনা অবলোকন করলাম,
পেট্রল পাম্পে তেল নিচ্ছি, দেরি হচ্ছে, কারণ সামনের বাইক চালকের সাথে পেট্রল মামার বাক বিতন্ডা।
মামা উপরে আঙ্গুল দেখিয়ে শাসাচ্ছে আর পিছনের বসা ছেলেটি বিব্রত চোখে বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে, কিছুক্ষন পর আমার টার্ন।
পেট্রল মামা তখনও গজ গজ করছেন
জিজ্ঞেস করলাম, কি হইসে মামা? চেতলেন কেন?
বললেন
“আর কইয়েন না! হালায় তেল লৈছে ২০০ টাকার আর বিল লিখতে কয় ৮০০ টাকার! ৬০০ টাকা মারার ধান্দা!
আমারে কয় কোম্পানির টাকা গেলে আপনার কি? পরে উপরে আঙ্গুল তুইলা দেখাইলাম
উনি তো দেখতেছেন!!! তাই না?
ভাবলাম, এই ধরণের লয়াল এমপ্লয়ীদেরইতো অর্গানিজশনগুলো খুঁজছে!
যারা ম্যানেজমেন্ট বডিতে বসে আছেন তাদের বলছি,
আপনার অর্গানিজশনেও প্রচুর নীরব লয়াল কর্মচারী লুকিয়ে আছে, তাদের খুঁজে বের করে মুল্লায়োন করুন, তারা আপনাদের এসেস্ট, এই ধরণের মানুষগুলার চাওয়া পাওয়া খুব বেশি থাকে না, বেতন বাড়াতে না পারলে সমস্যা নেই, যত্ন করে দুটো মিষ্টি কথা বলুন, পিঠে চাপড় দিয়ে বলুন গুড জব, বাস দেখবেন তাদের উদ্দামতা কেমন বেড়ে গিয়েছে।
পক্ষান্তরে, আপনার অবাধ্য এবং ডিসলোয়াল এমপ্লয়ীদের মনিটরিং এর আওতায় নিয়ে আসুন, তারা যতই ট্যালেন্টেড হোক না কেন আপনার ওয়ার্ক এনভায়রনমেন্ট নষ্ট করার জন্য ওরকম একটা দুটো পচা আলুই যথেষ্ট।
মনে রাখবেন, শুরুতেই কেউ খারাপ থাকে না, পরিস্থিতি মানুষকে খারাপের পথে ঠেলে দেয়। একটা অপরাধ প্রথমবার করতে খারাপ লাগলেও বার বার যখন করে তখন আর খারাপ লাগে না, সেটাই নিয়ম হয়ে দাঁড়ায় . তাই অপরাধ করার সুযোগ প্রথমবারই বন্ধ করুন
আজকের পিছনে বসা যেই ছেলেটি গিল্ট খাচ্ছিলো, যদি তার মোরাল স্ট্যান্ডার্ড উঁচু না হয়ে থাকে, কাল হয়তো দেখা যাবে সেও ছোটোখাটো চুরির দিকে ঢোলে পড়ছে।
কথা হচ্ছে আমরা কজনই বা মোরাল স্ট্যান্ডার্ড ধরে রাখতে পারি? আমরা তো হলাম সুযোগের অভাবে সৎ, তাই না?
ট্রেইনিং এর সুবাদে প্রচুর মানুষের সাথে এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ হয়েছে,
একটা জিনিস মোটামোটি ক্লিয়ার, ছোট হোক বড় হোক , দেশি হোক বিদেশী হোক, নিম্ন বিষয় গুলো, প্রতিটি অর্গানাইজেশনে জন্য প্রযোজ্য!
১. এমপ্লয়িররা যখন বিস্বাস করা শুরু করে যে মালিক পক্ষ বা সুপারভিসর শুধু নিজের আখের ঘুচাইতে ব্যাস্ত, তখন তারা ডেমোটিভেটেড হয়ে যায়
২. ১০০% উজাড় করে দেয়ার পরেও যখন তারা দেখে আপেক্ষিকতর কম যোগ্য লোকটি তেল লাগিয়ে উপরে উঠে যাচ্ছে তখন তারা ডেমোটিভেটেড হয়ে যায়
৩. কাজে যদি এপ্রিসিয়েশন না থাকে তখন তারা ডেমোটিভেটেড হয়ে যায়
আর যেইসব ডেমোটিভেটেড এমপ্লয়ীদের মোরাল স্ট্যান্ডার্ড থাকে না তারাই দেখা যায় ডিসলোয়ালটির এর দিকে ঝুকে পরে।
সাইমন সিনেক সুন্দর করে বলেছেন,
টীম চালানোর দুটো প্রধান ম্যাট্রিক্স হচ্ছে ট্রাস্ট আর ট্যালেন্ট
সবাই চায় হাই ট্রাস্ট হাই ট্যালেন্টেড মানুষ, কেউই চায় না লো ট্রাস্ট লো ট্যালেন্টেড মানুষ
তবে হাই ট্রাস্ট লো ট্যালেন্ট vs লো ট্রাস্ট হাই টেলেন্ট এর মদ্ধে কম্পেয়ার করলে দেখা যায় কেউই লো ট্রাস্ট হাই টেলেন্টেড মানুষদের সাথে কাজ করতে চায় না।
লো ট্রাস্ট হাই টেলেন্টেড হয়তো বেশি ফোট ফোট করে, কাজেও উদ্দামী বাট যখনি কারো ক্ষতি করার সুযোগ আসে তাদের কোনো বুক পিঠ বাধে না, এধরণের মানুষদের সাধারণত সবাই ভয় পায় মোর ইম্পোর্ট্যানলি তারা অন্যের পারফর্মেন্স বেঘাত আনে
লয়াল এমপ্লয়ী গুলো তখন পিছনে পিছনে আফসোস করে
ইস! কেন যে কোম্পানি এরে রাকসে!!! সব ধ্বংস করে ফেলতেসে!
ট্রাস্ট এবং ট্যালেন্ট এর মধ্যে সবথেকে বড় ডিটারমিনেন্ট ফেক্টর হলো: প্রিন্সিপাল
অর্থাৎ
I know I can Trust you with my life but question is can I also trust you with my wife? [সাইমন সিনেক]
বেক্তিগত ভাবে আমার কাছে কেন জানি মনে হয় মোরাল প্রিন্সিপাল আসলে কোনো না কোনো ভাবে স্পিরিচুয়াল প্রিন্সিপালের সাথে কানেক্টেড
ভুল বুঝবেন না, স্পিরিচুয়াল লুকের কথা বলছি না, দেখতে ধার্মিক হওয়া মানে এই না যে, সে মোরালি প্রিন্সিপালড, বলতে চাচ্ছি, স্পিরিচুয়ালি প্রিন্সিপলে হলো তারা যারা কোনো না কোনো ভাবে মনে প্রাণে বিস্বাস করে যে, একদিন তাকে তাঁর কাছে জবাবদিহি করতে হবে!
স্পিরিচুয়াল প্রিন্সিপাল আপনার মোরাল স্ট্যান্ডার্ডটি অটোমেটিক ইম্প্রোভ করে কারণ ঐ বিশ্বাস
উনি তো দেখতেছেন!!! তাই না?
রেফারেন্স:
১. 21 Indispensable qualities of a leader john maxwell
২. তোমরা যেখানেই থাক তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন, তোমরা যে কাজই কর না কেন, আল্লাহ তা দেখেন
কোরান ৫৭:৪
৩. মানব সন্তান পাঁচ প্রশ্ন ব্যতীত আল্লাহর কাছ থেকে সরতে পারবে না, সে কিভাবে জীবন অতিবাহিত করলো, সে তার বয়সকাল কি কাজে লাগলো, সে কিভাবে রুজি অর্জন করল, কোথায় তা বেয় করলো আর তার জ্ঞান কোন কাজে লাগলো [তিরমিযী ২৪১৬]

Leave a Comment