রেগে গেলেন?
তিন দিন খেটে খুটে একটা রিপোর্ট বানালাম
বস কে দেওয়ার পর খোঁচা দিয়ে বললেন
“এটা কি বানালে?”
“তোমার থেকে তো আরো ভালো এনালিটিক্স আশা করি সামি?”
ঝাড়ি দিয়ে বললেন
“যাও! ওই ভাবে করে নিয়ে আসো”
অথচ প্রথমে কিন্তু তিনি অভাবেই চেয়েছিলেন
সিটে এসে বসতে না বসতেই বাসা থেকে কল
ইলেক্ট্রিক বিল দেও নাই?
লাইন তো চলে গিয়েছে
বিকাশে বিল টা দিতে না দিতেই
মার্কেটিং এর এক ভাই কাল দিয়ে বললেন
“ভাই এই উইকের রিপোর্ট টা আপডেট দিলেন না যে?”
এই চলছে সারা দিন!
বের হতে হতে অফিসের গাড়ি মিস
অগত্যা সিএনজি নিতে হলো
সি এন জি থেকে বের হতে হতে ছুঁচালো কিসের সাথে বেঁধে পছন্দের পেন্টটি ফেঁসে গেলো
কোনো রকম বাসায় যখন পা ঢুকালাম অমনি
পায়ের নিচে পরে কোচত করে ভেঙে গেলো, আবরারের রিমোট কন্ট্রোল দামি গাড়িটা
বাস! আর নেয়া গেলো না
এনাফ ইস এনাফ
রগে গা জ্বলে যাচ্ছে!
“কতবার মানা করেছি ছেলেটাকে এভাবে জিনিস পত্র যেন ছড়িয়ে না রাখে”
“আজকেই ওর সব খেলনা ফেলে দিবো”
হুঙ্কার ছেড়ে ডাকলাম:
“আবরার!” “এই আবরার!” “এদিকে আসো!”
গল্পটি অনেকের সাথেই কি করে যেন মিলে যায়, তাই না?
এই যে ফাইনালি ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে রেগে আউটবার্স্ট হলাম, কেন?
কারণ, বস মিসবিহেভ করেছে এই জন্য নাকি অসময়ে বাসা থেকে কল এসেছে এই জন্য
কলিগ রিপোর্ট চেয়েছে এই জন্য নাকি অফিসের গাড়িটি মিস করেছি এই জন্য
নাকি পেন্টের দুঃখে, নাকি ছেলের খেলনা ভাঙার গিলটিতে
নাকি সবগুলোর কম্পাউন্ড এফেক্ট?
আমার মনে হয়
আমি রেগেছি কারণ রাগটা আমার ভিতরেই ছিল
কারণ আমাদের প্রত্যেকের ভেতরেই রাগ এর একটা এলিমেন্ট আছে
সমস্যা রাগ থাকায় নয়, সমস্যা রাগ প্রকাশ করাটায়
অনেকেই বলে রাগ ঝেড়ে ফেলা ভালো
একদম বাজে কথা,
যারা নিজের রাগ কে জাস্টিফাই করতে চায় তারাই এ কথা বলে বেড়ায়
আমেরিকান সাইকোলজিকাল এসোসিয়েশন এর একটা রিসার্চ দেখায় এই রাগ ঝাড়া কোনো ভাবেই হেল্প করে না বরং উল্টো
কারণ এতে রিলেশনশিপ নষ্ট হয়
আর শয়তান তো সেটাই চায়
ইনফেক্ট শয়তান এর একটা গুন্ই হলো সে আমাদের ইমোশনকে এমপ্লিফাই করতে পরে
অর্থাৎ সে আমাদের রাগকেও এম্প্লফাই করতে পারে
এই জন্যই বোধয় রাসূল বলেছেন
রেগে গেলে
“আউযুবিল্লাহ” বলে শয়তান থেকে আশ্রয় চাও”
একারণেই হয়ত কোরানে এসেছে [কুরআন ৩:১৩৪]
“স্রষ্টা তাদের ভালোবাসেন যারা রাগ কে প্রশমিত করতে পারে”
তো তাহলে কি করে এই রাগ কে প্রশমিত করবো?
তার আগে রাগের বেকগ্রাউন্ড সকলোজি বুঝা দরকার:
রাগের বহিঃপ্রকাশ হয় যখন আমাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়
সমস্যা হলো এই ধৈর্যের বাঁধ হলো “ডাইনামিক”
তার ভ্যালু কখনো আপ হয় থাকে আবার কখন লো হয়
দেখা গিয়েছে
সাধারণত নেগেটিভ এনার্জি এই ধৈর্যের ভ্যালু লো করে দেয়
যেমন:
আপনার ইনক্রিমেন্টটা হলো না, কিন্তু কলিগ কেলেকেলিয়েই যাচ্ছে
একটা অনিশ্চিত পরিস্থিতি, কেউ ফাইজলামি করেই যাচ্ছে
একটা অপরাধ করে গিল্ট খেলেন, ভিতরটা অস্থির, তখন স্ত্রীর নরমাল কোথাই যেন সুচ
ফিউটারের দুশ্চিন্তায় মগ্ন, ওই সময় ছেলের সামান্য আব্দারই যেন বিশাল কিছু
অর্থাৎ আমাদের নেগেটিভ ফিলিংস গুলো ধৈর্যের বার টা লোয়ার করার ফলেই রাগ টা প্রকাশ পায়
তো কি করে এই পরিস্থিতি গুলোতে কন্ট্রোল করা যায়?
উত্তর কোরানের স্রষ্টা দেন একটা কেস স্টাডিতে:
যখন বনি ইসরাইল ফেরাউনের হাত থেকে বেঁচে রেড সি ক্রস করে এপারে এসে পরলো,
প্রচন্ড একটা অনিশ্চয়তা সবাইকে হিট করলো
“হায় হায়! কি খাবো?” “কই থাকবো!” ইত্যাদি ইত্যাদি
ওই সময় একটা গ্রউইং রাগ যেন সবার মদ্ধে দেখা দিলো
সবার যেন একটাই কথা
“মাইর খাচ্ছিলাম তো ঠিক আছে, বেঁচে তো অন্তত ছিলাম”
“এখন কি হবে?”
“না খেয়ে মরবো?”
আর ঠিক ওই সময় আল্লাহ হজরত মুসাকে লিডারশিপ স্পিচ দিতে বলেন
স্পিচের শুরুটা করতে বললেন এভাবে
“তাদের মনে করিয়ে দাও তাদের স্রষ্টার ফেভার্স গুলো
তারপর তিনি ফেভার্স গুলো বর্ণনা দিয়ে বলে
“তোমরা শোকর আদায় করো”
খেয়াল করেন
তিনি কিন্তু ধৈর্যের কথা বলেন নি
“তোমরা ধৈর্য ধারণ করো”
কারণ তিনি জানেন
“আমরা ততক্ষন পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে পারি না
যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা গের্টফুল হতে পারি”
সাইকোলোজিকালি এটা যে কত বড় একটা লেসন
ছোট করে বলছি
যখনি রাগের কোনো উপকরণ দেখা দেয়
ছোট্ট একটা এক্সারসাইজ করুন
ভেবে দেখুন কি কি ফেভার্স আপনার রব আপনার উপর করেছে যার কারণে আজ আপনি আজ গ্রেটফুল
সবাই একটা কমন মিস্টেক করে
সবাই এমন ভাবে গ্রেটিটুড লিস্ট বানায় যেন এটা একটা টু ডু লিস্ট
মনে রাখবেন
গ্রেটিটুড লিস্ট কোনো টু ডু লিস্ট নয় যে টিক মেরে চলে গেলেন, বাস হয়ে গেলো
এটা একটা “টু ফিল” লিস্ট
আপনাকে ফিল করতে হবে
কি ভাবে ফিল করবেন?
ফিল করুন আপনার ছেলের মিষ্টি হাসিটি
ফিল করুন আপনার প্রথম চাকরির প্রথম সেলারিটি,
প্রথম সমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে হতবাক হওয়া মুহূর্তটি
প্রথম প্লেনে উঠার এক্সসাইটমেন্টটি,
অথবা ফিল করুন মা এর সাথে একটা রিক্সায় চলা চমৎকার সময়টি,
অথবা কলিগের সাথে মজার কোনো কোনো ঘটনাটি
আনমনেই দেখবেন রাগটি কি পরে গিয়েছে
কেন জানেন?
কারণ স্রষ্টার ফর্মুলা
“আমরা একই সাথে রাগ এবং গ্রেটিচুড ফিল করতে পারি না !
হিউমেন সাইকোলজি বড় অদ্ভুৎ!
একটা ফিলিংস প্রেকটিস করলে কি করে যেন আরেকটা ফিলিংস প্রসমিত হয়ে যায়!

Leave a Comment