এই বছর কি আর কুরবানির দরকার আছে?

একটার পর একটা বিপদ লেগেই আছে

আজকে বদর, কালকে উহুদ, পরশু খন্দক,

তরশু হুদাইবিয়া, এর পরে নাকি আবার মক্কা বিজয়!

১৩ বছরে এত গুলো ঝামেলা পূর্ণ ইভেন্ট থাকা সত্ত্বেও কথাও পেলাম না যে তিনি কোন বছর কুরবানি মিস করেছেন

কারন তিনি জানতেন,

কুরবানির মাধ্যমে বিপদ কেটে যায়!

বরং তিনি এটাকে এতটাই সিরিয়াসলি নিতেন যে তিনি ঘোষণা করে দিতেন

কেউ যদি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কুরবানির না দিয়ে থাক, তাহলে তোমাদের ঈদ গাহে আসার প্রয়োজন নেই!

অনেকেই ভাবছেন,

করনা কালে কুরবানি কি দরকার? টাকাটা গরিবদের দিয়ে দিলেই হয়?

আপাত দৃশটিতে নিশশন্দেহে ভালো আইডিয়!

কিন্তু আপনি কি জানে এই আইডিয়া বরং মন্দই ডেকে আনবে?

আগে বই পত্রে পরেছিলাম অর্থ স্থবিরতা একটা দেশের ইকনমির জন্য ক্ষতি কারক

“ক্ষতি কারক” শব্দটা আসলে একটা আন্ডার স্টেটমেন্ট,

এখন সরাসরি দেখছি, এটা কতটা ভঙ্কর! কত সহজে একটা দেশকে ধংশ করে দিয়ার ক্ষমতা রাখে !

একটা সময় ভাবা হত, যার যত অর্থ, তাঁর ইকনমি তত শক্ত, আর এখন ভাবা হচ্ছে, যারা যত ট্রান্সেকশন তাঁর ইকনমি তত ভালো!

এই কারনেই কিন্তু জাকাতের বিধান, টাকা পয়সা যেন উচ্চ বিত্তের হাতে না স্তবির হয়ে থাকে!

এই কুরবানি ঘিরে প্রতি বছর কয় হাজার কটি টাকারা ট্রান্সেকশন হয় আপনার জানা আছে?

কয়েক বছর আগে একটা রিপোর্টে পরেছিলাম,

দেশে আগত ঈদ উসিলায় প্রায় ১ কটি গবাদি কুরবানি হয়ে থাকে

প্রায় ১২ লক্ষ ফার্ম বা কৃষক পরিবার এই সাপ্পলাই দিয়ে থাকে

অর্থাৎ ১২ লক্ষ ফার্ম বা পরিবার এর ইনকাম এর সাথে জরিত

হাজার হাজার মাদ্রাসা চামরা বিক্রি করে তাদের অর্ধেক বছরের ফান্ড রেইস করে!

এরা পথে পথে চাইতে পারে না, কারো কাছে নিরলজ্জের মত হাত পাততে পারে না, এরা সারা বছর এই ইভেন্টের দিকে অনেক আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকে!

আর আমরা না বুঝে সুন্দর ভাবে তাদের পথে বসি দেয়ার প্লেন করছি!

হোটেল আর রেস্তুরেন্ট ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট পরিবার গুলো তো পথে বসেই গেল এখন আসুন আমরা আর আমাদের উর্বর মস্তিষ্কের দাঁরা কৃষক পরিবার গুলকে পথে না বসাই!

বিঃদ্রঃ

বাসায় ডিপ ফ্রিজ নষ্ট দেখে কুরবানি দিবেন না! এমন অজুহাত দাঁড় করবেন না! কারন, কুরবানি শুধু নিজেরা গোস্ত খাওার জন্য নয়, এটা গরিব দুঃখিদেরও হক! [কুরআন ২২ঃ২৮ ]

Share: