খোঁচা দিয়ে ধর্ম মন জয় করা যায় না!
১৯৯৩ সালে আব্বুর দিল্লি ট্রান্সফার হলো
নতুন দেশ নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ নতুন বেশ
অনেকটা ইচ্ছার বিরুদ্ধেই সেখানে যাওয়া
তবে নতুন প্রতিবেশীদের অতিথিয়তায় আমরা মুগ্ধ
খুব অল্প সময়ই সবাই বেশ আপন করে নিয়েছিল
সময়টা বেশ যাচ্ছিলো
ঈদের ছুটিতে দেশে আসতাম
ফিরে গিয়ে আবার খেলা ধুলায় মেতে থাকতাম
দিনগুলো চমৎকার কাটছিলো
বিপত্তি এলো এক কুরবানীর ঈদে
ছুটি শেষে যখন ফিরে গেলাম
বন্ধুরা সবাই এসে আমাকে একটাই প্রশ্ন
“আচ্ছা! তোমরা আমাদের গো মাতাকে কেন হত্যা করো?” “কেন?”
১১- ১২ বছরের এক লাজুক ছেলের কাছে সেদিন সেই কঠিন প্রশ্নের কোনো উত্তর ছিল না
মাথা নিচু করে শুধু শুনে গিয়েছিলাম
খুব লজ্জা পেয়েছিলাম সেদিন
এমন নয় যে তারা অপমানের উদ্দেশ্যে আমাকে বলে ছিলো
শুধু জানার অথবা জানানোর উদ্দেশ্যেই কথা গুলো বলা
তবুও
যেহেতু আমি সংখ্যা লঘু ছিলাম
তাই তাদের প্রতিটা যুক্তিই আমার কাছে কেমন যেন বিষাক্ত লেগেছিলো
সেদিন বুঝেছিলাম,
তর্ক দিয়ে আপনি কখনই মানুষের মন জয় করতে পারবেন না
যুক্তি যতই জোরালো হোক
হয়তো তা আপনাকে সাময়িক ভাবে জিতিয়ে দিবে
কিন্তু পরবর্তীতে ঠিকই অপরজন আরো শক্তিশালী যুক্তি নিয়ে উপস্থিত হবে
তাই বলছি
এই যে বিভিন্ন ধর্মীয় উপলক্ষল গুলোকে কেন্দ্র করে আমরা যুক্তিপূর্ণ পোস্ট গুলো শেয়ার দিচ্ছি
তা কি ঠিক হচ্ছে?
আমার তো মনে হয়, তা কখনই ইতিবাচক রেসাল্ট এনে দিতে পারে না
সেটা শুধু অন্যদের লজ্জায়ই ফেলতে পারে
কুরবানীর সময় “গো হত্যা” মার্ক পোস্ট দেখে আমাদের যেমন গা জ্বালা করে
ঠিক তেমনি
দূর্গা পুজোয় “আমি কেন মন্দিরে যাব না”
বা
বড় দিনে “এটা হচ্ছে পেগানদের রিচুয়াল”
এ ধরণের পোস্ট দেখেও আমাদের অন্য ধর্মাবলীর বন্ধুদেরও গা জ্বালা করে
মাঝে মাঝে তো আমরা এটাকে অনেকটা বাড়িবাড়ির পর্যায়েও নিয়ে যাই
অথচ আমরা ভুলে যাই আমাদের সৃষ্টিকর্তার কড়া নির্দেশ
“ধর্মের মদ্ধে কোনো বাড়াবাড়ি নেই” [কুরআন ২:২৫৬]
মন যদি জয় করতেই হয় তাহলে আগে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করে তুলুন
দেখবেন মানুষ তখন এমনিতেই আপনার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে উঠছে, আপনার কথা শুনছে
আর এই গ্রহণযোগ্যতা আসবে নিজের চরিত্র, নিজের আদর্শ ও নিজের ব্যবহার সুন্দর করতে পারলে
এটাই সঠিক নিয়ম
প্রথম ৪০ বছর রাসূলুল্লাহ এটাই করেছিলেন এবং এভাবেই তিনি সফল হয়েছিলেন ……

Leave a Comment