নেতৃত্ব কেমন হওয়া উচিত?
তারা কজনা দূর দূর বুকে অপেক্ষা করছে
বিশাল এক ভুল করে ফেলেছে
জেনারেলর মানা সত্বেও তারা তাদের পজিশন থেকে সরে যায়
তারা ছিল স্নাইপার
তাই তাদের এই একটা ভুলের কারণের যুদ্ধের মোর ঘুরে যায়
জিতা পজিশন থেকে তারা শোচনীয় ভাবে হেরে যায়.
শত্রূ পক্ষ পিছন থেকে এটাক করে বসে
জেনারেল ইনজুরড হয়
চোখের সামনে এক এক করে ৭০ জন সাথী ঝরে পরে”
দুঃখ ক্ষোভ আর হতাশা
“কেন করলাম আমরা? কেন! কেন!”
এখন ডাক পড়েছে
আশংকা, না জানি কোর্ট মার্শাল না হয়ে যায়!
.
.
.
উহুদ যুদ্ধের পরাজয়ের পরবর্তী ঘটনা
জেনারেল নিজের তাঁবুতে অবস্থামান
এক দিকে যুদ্ধ হারের লজ্জা, অন্যদিকে কাছের মানুষ গুলোকে হারানোর বেদনায় মন তিক্ত
পোস্ট ওয়ার মিটিং এ অপরাধীগুলোকে ডাকা হয়েছে
রওনা দিবে, ঠিক তখন আয়াত নাজিল হলো
আল্লাহ নিজ হাতে মুসলিম জাহানের জেনারেল কে এই মিটিং এর জন্য তৈরী করছেন
প্রিপারে করছেন কি করে ক্রাইসিস মোমেন্টে রিএক্ট করতে হয়. কারণ রিয়েল লিডারশীপের আসল চ্যালেঞ্জ হলো মানুষ যখন আপনার কথা ঠিক মতো না শুনে
আয়াতটি লিডারশীপের উপর এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়
এই একটা আয়াতের কন্সেপ্টের উপর ভিত্তি করে আমাজোনে কয়েক হাজার টাইটেল লিডারশীপে বেস্ট সেলার হয়েছে…
আল্লাহর এক বিশেষ বিশেষ বিশেষ রহমতে যে, আপনি তাদের জন্য এক অস্বাভাবিক রকমের কোমল হৃদয়এর [লানা] মানুষ হয়েছেন, আপনি যদি কর্কশ ভাষী হতেন [ফাজ] এবং রাগ পোষা হৃদয়ের হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে ছিটকিয়ে [ইনফিডাড] দূরে চলে যেতো। কাজেই তাদের ক্ষমা [ফা ফু] করে দিন এবং তাদের জন্য মাগফেরাত কামনা করুন এবং ভবিষতে তাদের কাছ থেকে পরামর্শ গ্রহণ করুন। অতঃপর যখন কোন কাজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ফেলেন, তখন আল্লাহ উপর ভরসা করুন কারণ যারা আল্লাহর উপর ভরসা রাখে তাদের কে তিনি ভালোবাসেন [কুরআন ৩:১৫৯]
আমার প্রত্যেকেই কোনো না কোনো লিডারশিপ পসিশন হোল্ড করি, কেউ আমরা ম্যানেজার, কেউবা সুপারভাইসের, কেউ টীম লিড অথবা কেউ সিম্পলি একজন গৃহকর্তা
পজিশন যাই হোক আমাদের অধীনস্ত কেউ না কেউ ঠিকই আছে, সো এই টাইমলেস লেসন আমাদের সবার জন্যই কার্যকরী
আয়াতে ইন্সট্রাকশন শুরু করলেন
“আল্লাহর এক বিশেষ বিশেষ বিশেষ রহমত যে ,আপনি তাদের জন্য এক অস্বাভাবিক রকমের কোমল হৃদয়এর [লানা] মানুষ হয়েছেন”
এখানে লিন বা লানার শব্দটি বেশ গভীর।
যদিও এর শাব্দিক অর্থ হলো রুক্ষ বা কর্কশ হওয়া, তবে এটি আরবিতে অন্যের প্রশংসা করার ক্ষেত্রেও বেবহার হয়. শুধু তাই না, এর আরেকটা প্রয়োগ হলো, এম্পেথিক লিসেনিং এর ক্ষেত্রে। আরো মজার বিষয় হলো, আরবিতে নরম নরম সুমিষ্টি খেজুরকেও লিন ডাকা হয়
অর্থাৎ এই একটা শব্দে আল্লাহ বুঝিয়ে দিচ্ছেন,
হে রাসূল! আপনি যখন মিটিং এ যাবেন, তখন আপনার চেহারায় বা ভাষায় কোনো ভাবেই যেন কোনো রুক্ষতা প্রকাশ না পায়, শুধু তাই না, সেখানে তাদের বকাবকি তো দূরের কথা বরং তাদের ভালোদিক গুলো আগে হাইলাইট করুন!
মিটিং এ তাদেরকে জাজ না করে তাদের পসিশন থেকে নরম হয়ে আগে তাদের কথা শুনার চেষ্টা করুন
মানুষ ভুল করবেই, তাই বলে তারা এতদিন যা ভালো কাজ করে এসেছে তা একটা ভুলের কারণে তো আর নষ্ট হতে যেতে পারে না. তারা অলরেডি অনুতপ্ত, তারা অলরেডি লজ্জিত, তাই এই মন খারাপ করার দিনে তাদের দরকার একটা মোরাল বুস্ট।
কি ইনক্রেডিবল একটা লেসন!!!
এরপর আয়াত কন্টিনিউ হয়…..
“আপনি যদি কর্কশ ভাষী হতেন [ফাজ] এবং রাগ পুষে রাখা হৃদয়ের হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে কবেই ছিটকিয়ে [ইনফিডাড] চলে যেতো”
ফাজ এর শাব্দিক অর্থ হলো কারো সাথে কর্কশ ভাবে কথা বলা, এর আরেকটা অর্থ হলো “কারো উপর কিছু স্প্ৰেয় করা”
অর্থাৎ কারো সাথে এমন ভাবে চিৎকার করা যাতে মুখের থুথুও ছিটিয়ে বের হয়ে যায়!
প্রায়ই দেখা যায়, আমরা বাবা-মা রা গলা ফাটিয়ে হুঙ্কার দিয়ে উঠি অথবা বস হিসেবে কাচের রুমে ডেকে অকথ্য ভাষায় চেঁচামেচি করি.
পরে অনুতপ্ত হয়ে খেলনা কিনে দেই, বুজে জড়িয়ে ধরি, ডেকে সরি বলি অথবা জাস্টিফাই করি
“বাবা আমি তো তোমার ভালোর জন্যই চিৎকার করেছি, আসলে আমি তোমায় ঠিকই ভালোবাসি”
অথবা
“আসলে ইয়ে মানে আমি একটু শর্ট টেম্পেরড তো তাই একটু ইগনোর করেন প্লিস”…
কিন্তু জানেন কি? আপনার এই সরির কোনো মূল্য নেই
যা হবার তা হয়ে গিয়েছে, ডেমেজ ইস ডান
ফাজ এর পর পর আল্লাহ যেই বিষয় তুলে ধরলেন তা হলো “রাগ পুষে রাখা হৃদয়”
কেউ কেউ আমরা চিৎকার করি না ঠিকই কিন্তু রাগটি ভিতরে ভিতরে পুষে রাখি, মাঝে মাঝে পণও করে বসি যে,
“মানুষটাকে জীবনেও মাফ করবো না”
মুখ দিয়ে হয়তো বলি “আমি তোমাকে মাফ করে দিয়েছি” কিন্তু ভিতর ভিতর ঠিকই জলে ছারখার হয়ে যাই
এই দুই জিনিসের কম্বিনেশনের এটিটিচুড যদি আপনার মদ্ধে থাকে তাহলে কি হবে জানে?
আল্লাহ কসম খেয়ে জানাচ্ছে
এমনটা যদি হয় তাহলে আমি কসম খেয়ে বলছি
সাহাবারা আপনার কাছ থেকে অবশ্যই অবশ্যই ছিটকিয়ে দূরে চলে যেত
কাচ যখন হাত থেকে পরে ভেঙে গিয়ে ছিটকিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পরে, এই বিষয়টাকে আরবিতে ইনফিদাদ বলে,
এক্সাক্টলি এই শব্দটিই এখানে সাহাবাদের ক্ষেত্রে বেবহার হয়েছে,
শব্দ চয়নের অর্থ হলো আমাদের মন হচ্ছে কাঁচের মতন
কাচ যখন ভেঙে যায় তা জোড়া লাগানো যাই না, যায় যদিও লাগে তা কখনই আগের অবস্থায় ফায়ার যায় না
মোদ্দ কথা আল্লাহ বলছেন
মিটিং এ যাও, শান্ত হয়ে, তাদের কথা মন দিয়ে শুনো, তাদের প্রশংসা করো, চিৎকার করবে না আর ভিতরে রাগও পুষে রাখবে না
আরো বললেন
“তাদের খুশি মনে ক্ষমা করে দাও [ফা ফু] আর তাদের জন্য দুআ করো.”
বাবা মা বা বৌ বাচ্চার জন্য তো দুআ করা সহজ, কিন্তু কেউ যখন আপনার মেজাজ খারাপ করবে তার জন্য দুয়া করতে কারেজ লাগে.
আল্লাহ আরো বললেন
“নেক্সট টাইম ইম্পরট্যান্ট মিটিং এ তাদের ডাকো, ডেকে তাদের সাথে পরামর্শ করো!”
একটু চিন্তা করে দেখেন, নেক্সট জুদ্ধের পৃ-মিটিং চলছে,
তখন তাদের কে ডেকে রাসূল জিজ্ঞেস করলেন
“একটা ফিডব্যাক দাও তো কি স্ট্রেটেজিতে আগানো যায়?”
একটু কি কল্পনা করতে পারছেন তাদের ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন তা কেমন হয়েছিল!!
“জেনারেল আমার কাছে পরামর্শ চাচ্ছে! অথচ আগের বার কি ব্লান্ডারটাই না করেছিলাম!
এটা হচ্ছে আসল লিডারশিপ
ফাইনালি আল্লাহ এটা বলে আয়াত শেষ করলেন
“যখন তোমার পরামর্শের পর ডিসিশন নিবে তখন আল্লাহর উপর ভরসা রাখো”
মানে হলো?
এফোর্ট আমাদের হাতে কিন্তু রেসাল্ট উনার হাতে,
আমরা শুধু ট্রাই করতে পারি কিন্তু আমাদের জন্য কোনটা বেস্ট সেটা তিনিই জানেন
এখানে অহংকার বা বাহাদুরির কিছু নাই
কি অ্যামেজিং একটা লিডারশিপ লেসন
অরগানিজশন গুলো প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম গুলোতে খরচ না করে জাস্ট এই একটা আয়াটের বিষয় বস্তু যদি প্রাকটিস করতো তাহলে তাদের প্রোডাক্টিভিটি সাকসেস রেশিও আকাশ চুম্বি হতো।
এটা কোনো স্পেকুলেশন না বিশ্বাস নয়
অগুনিত কোম্পানি এই এপ্প্রচ নিয়ে আকাশ চুম্বি সফলতা পেয়েছে
কোনো বেক্তিগত অভিমত নয় স্টাটিস্টিক্স দ্বারা প্রমাণিত
ফরচুন ৫০০ কোম্পানির লিডারশিপ পসিশনগুলো একটু এনালিজ করে দেখুন! কনফিউশন দূর হয়ে যাবে!
রেফারেন্স:
[1 ]Revive your heart by Nouman ali khan [2] Leadership Lesson from the life of rasulullah by Mirza Baig
Leave a Comment