হজ টিপস

হজ ফ্লাইট শুরু
তাই কিছু কথা
এমন কিছু কথা যা মনে হয়েছে
আমার হজ যাত্রায় যদি কেউ আমায় বলে দিতো
তাহলে আমার কাজে আসতো
কিছু দিন আগে এই কথা গুলোই একটা হজ ক্লাসে বলেছিলাম
অনেকেই পছন্দ করেছিল
তাই ভাবলাম
হজ ক্লাসের গুলো কথা গুলো লিখা আকারে তুলে ধরি
প্রায় ১৫ ২০ টা পয়েন্ট খন্ড খন্ড লিখা
চেষ্টা করবেন এক শ্বাসে না পড়ে
সেভ করে থেমে থেমে পড়ার
-শুরু-
১ নাম্বার পয়েন্ট: হজে মকবুল
সবার বিস্বাস যে
“হজে গেলে মানুষ নিষ্পাপ হয়ে ফিরে”
হ্যা ফিরে, তবে শর্ত হলো
যদি তার হজ কবুল হয় তবেই
তাহলে স্বাবাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে,
কিসে তা কবুল হয়?
জানতে হলে
আগে বুঝতে হবে কি সে তা কবুল হয় না আগে!
কবুল হয় না যদি তাতে ঝগড়া ও অশ্লীলতা থাকে
তাই হজের শুরুতেই প্রথম যেটা করা দরকার সেটা হলো একটা মিশন স্টেটমেন্ট
মিশন স্টেটমেন্ট হলো আপনার সংকল্প বা সংবিধান
যা আপনাকে ডিফাইন করে
যেমন স্টেটমেন্ট হতে পারে:
আজ থেকে আমি কারো সাথে ঝগড়া করবো না!
আজ থেকে আমি কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করবো না!
আজ থেকে আমি কাউকে কষ্ট দিবো না!
আজ থেকে অশ্লীলতার ধারে কাছেও যাবো না!
এই মিশন স্টেটমেন্ট টা পারলে কোথাও লিখে রাখেন
সংকল্পটা খুব ইম্পর্টেন্ট
কারণ এটা আপনাকে সোজা রাখবে
২ নম্বর পয়েন্ট: আপনি একটা মেগনেট
এহরাম অবস্থায় নিজেকে একটা চুম্বক মনে হবে
আপনার মনের অবস্থা যেমন টা হবে
দেখবেন আসে পাশের অবস্থাও তেমনটা হতে থাকবে
আপনি যদি অল্পতেই বিরক্ত হন তাহলে দেখবেন
আপনার আসে পাশে বিরক্তকর ঘটনা বেড়ে যাচ্ছে
আপনি যদি অল্পতেই রেগে যান
দেখবেন রেগে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে যাচ্ছে
আর যদি মনে অশ্লীলতার এসে যায়
আর আপনিও সেখানে গা ভাসিয়া দিয়েছেন
তাহলে দেখবেন ইন্সটেন্টলি কোনো না কোনো
পেরেশানি বা বেইজ্জতি এট্ট্রাক্ট করছেন
তাই বলছি মিশন স্টেটমেন্টটা সব সময় মাথায় রাখুন
এটা আপনাকে প্রটেক্ট করবে
নিজের নেগেটিভ ইমোশন গুলোকে শান্ত করুন
ইস্তেগফার করুন এবং গ্রেটিচুড প্রেকটিস করুন
মন প্রশান্ত হওয়াটা জরুরি কারণ
পরবর্তী ঘটনা গুলোও তাহলে প্রশান্ত হবে
৩ নম্বর পয়েন্ট: এহরাম নিয়ে একটা জরুরি কথা
হজে কখন কিভাবে এহরাম বাঁধবেন, কখন নিয়ত করবেন,
এই ডিটেলস দিয়ে পোস্ট ভারী করবো না
কারণ এটা অনেকে অনেক ভাবে আপনাকে অলরেডি বুঝিয়েছে
তাই এমন একটা কথা বলবো যেটা হয়তো কেউ আপনাকে বলেনি
“ইহরাম বাধার পূর্বে দুই উরুতে বেশি করে ভেসেলিন লাগিয়ে নিবেন”
প্রচুর হাটা প্লাস নো আন্ডার গার্মেন্টস!
অর্থাৎ প্রচুর ফ্রিকশন
অর্থাৎ বাকিটা বুঝে নিন
৪ নাম্বার পয়েন্ট: প্রথম কাবা দেখা
আপনি যদি প্রথম বারের মতন বাইতুল্লাহর মেহমান এ থাকেন
তাহলে আপনার সুবর্ণ সুযোগ
কারণ প্রথম বার কাবা দেখার পর যে দুয়াগুলো মন থেকে বলবেন সেগুলো বিফল হয় না
তাই এই মোমেন্ট টা খুব ইম্পর্টেন্ট কারণ
ইট স্টেইস উইথ ইউ ফর দা রেস্ট অফ ইওর লাইফ
সমস্যা হলো বাইতুল্লাহ পৌঁছানোর সাথে সাথে
“কাবা কই?” “কাবা কই?” বলে আমরা উঁকি ঝুঁকি মারা শুরু করি
আর এতে আমরা মোমেন্টটা নষ্ট করে ফেলি
বাইতুল্লাহ পৌঁছে চোখ নামিয়ে রাখুন
আপনি যখন অবসোলিউটলি সিউর যে কাবা আপনার সামনে
তখন আর অনলি তখন চোখ তুলে তাকান
মেসমেরাইসড হন আর দুআ তখন করুন
“আল্লাহ আমার পূর্বের ও পরের সকল নেক দুআ তুমি কখনো ফিরিয়ে দিও না”
৫ নম্বর পয়েন্ট: তাওয়াফ নিয়ে কিছু কথা
৪ রাকাত নামাজেই পেচ লাগিয়ে ফেলি আর তাওয়াফ তো ৭ চক্কর
অনেকে অনেক ভাবে চেষ্টা করে,
কেউ আঙ্গুল টিপে, কেউ বা তসবিহ টিপে,
কিন্তু কিছুতেই কিছু কাজ হয় না
মনের ভুল এসেই যায়, কারণ শয়তান বড় তৎপর
তবে একটা স্ট্রেটেজি আমার খুব উপকারে এসেছে
আমি প্রত্যেকটা রাউন্ডকে দুআর ক্যাটেগরিতে ভাগ করে নিয়েছিলাম
ফর এক্সাম্পল
প্রথম রাউন্ড এর দুআ ছিল: নিজের জন্য
দ্বিতীয় রাউন্ড এর দুআ: নিজের সন্তানের ও বিবির জন্য
তৃতীয় রাউন্ড এর দুআ: বাবা মার্ জন্য
চতুর্থ রাউন্ড এর দুআ: আত্মীয়স্বজনের জন্য
পঞ্চম রাউন্ড এর দুআ: বন্ধু বান্ধব, সহপাঠিদের ও সহ কর্মীদের জন্য
ষষ্ঠ রাউন্ড এর দুআ: নিজ দেশের জন্য আর
৭তম রাউন্ড এর দুআ: বিশ্ব বাসির জন্য
এভাবে আমার ভুল হতো না, আর যদিও হয়েও যেত জাস্ট রিকল করে নিতাম কাকা কার জন্য দুআ করেছি বাস আবার কাউন্টিং ঠিক হয়ে যেত
প্লাস এর ফলে অনেক কন্সট্রাক্টিভ ভাবে দুআও করা গিয়েছিলো,
ট্রাই করে দেখতে পারেন!
৬ নাম্বার পয়েন্ট: তাওয়াফে মোবাইল ফোন ব্যবহার
তাওয়াফের সময় ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন
ভিডিও কল তো আরো না
কারণ তাওয়াফ হলো একটি চলন্ত নামাজ
নামাজে কি আমরা ভিডিও কল করি?
তাওয়াফ শেষেও যদি কারো সাথে ভিডিও কল করতেই হয়
যার সাথে করবেন তাকে ভালো করে পর্দায় থাকতে বলুন
কারণ বাসার পরিবেশে অনেকেই বাসার জামা কাপড় পরেই কল এ চলে আসেন
এটা তার জন্য এবং আসে পাশে মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ
৭ নাম্বার পয়েন্ট: তাওয়াফে দুআ
তাওয়াফে নির্দিষ্ট কোনো দুআ নেই যে কোনো দুআ চাইতে পারেন
আমরা দুর্বল ঈমানের মুসলিম
মুখে ঠিকই বলি যে দুআ কবুল হচ্ছে তবুও কেন মনে বিশ্বাস করি না
বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করতে করতে সেই বিশ্বাস কে আপনি পোক্ত করতে পারেন
ছোট ছোট এমন কিছু চান যেটা কবুল হলে সাথে সাথে আপনি দেখতে পান
যেমন আল্লাহ খিদা লেগেছে, একটা ব্যবস্থা করে দাও
হে আল্লাহ ক্লান্ত লাগছে, ক্লান্তি দূর করে দাও
হে আল্লাহ অমুকের কথা মনে পড়ছে আজ কথা বলে দাও
অবাক হয়ে দেখবেন ছোট ছোট দুআ গুলো কি করে যেন কবুল হয়ে যাচ্ছে
এই ছোট ছোট ফলে যাওয়া দুআ গুলো আপনাকে বড় বড় দুআ করতে সাহস যুগাবে
বিস্বাস যুগাবে!
৮ নম্বর পয়েন্ট: তাওয়াফে কাবা ছুঁয়া
তাওয়াফ করতে করতে অনেকেই কাবা ছুতে চান
আমার এডভাইস এহরাম অবস্থায় তা করতে যাবেন না
কারণ পুরো কাবা জুড়ে আতর মাখা
সো ইহরামে লেগে গেলে তা খবর কারণ
কাবা যদি ছুঁতেই হয়
উমরা শেষে অন্য নামাজের সময় ছুয়েন
জাস্ট এহরাম অবস্থায় নয় কারণ রিস্কি,
দম দিতে হতে পারে!
৯ নম্বর পয়েন্ট: হাজরে আসওয়াদে চুমা
তাওয়াফ করতে করতে হাজরে আসওয়াদ চুমা দেয়ার স্বপ্ন সবার
জাস্ট একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন
সেটা ছুঁতে গিয়ে আপনি কাউকে না আঘাত বা কষ্ট না দেন
দিলে আপনার হজ রিস্কে পরে যাবে
১০ নম্বর পয়েন্ট: জমজম কথা
তাওয়াফ শেষে মাকামে ইব্রাহিমের পিছে দু রাকাত নামাজ পরে জমজম পান
এ এক অদ্ভুত পানি!
খেলে পিপাসা মিটে আবার পেটও ভরে সাথে আবার শিফাও মিলে!
সারা বাইতুল্লাহ জুড়েই জমজম
ছোট ছোট ড্রামে ধান্দা এবং নরমাল দুই ভার্সনই রাখা
খেয়াল রাখবেন খাবার সময় নরমাল টা খাচ্ছেন, ঠান্ডাটা নয়
অনেক হাজি আছে শুরুতেই ঠান্ডাটা ঢোক ঢোক করে গিলতে গিয়ে বিছানায় পরে যায়,
বিশাল ক্ষতি
তাই খাবার সময় একটু কেয়ারফুল
আর জমজমের একটা সুন্দর দুআও আছে
অনেকেই জানি না বলে পড়া হয়ে উঠে না
সুন্দর দুয়াটা:
“হে আল্লাহ!
আমাকে উপকারী জ্ঞান দাও
আমার রিজিকে প্রস্থতা দাও
আর আমাকে সকল রোগের শিফা দাও”
প্রতিবার জমজমের খাবার আগে বিসমিলাহ বলে দুয়াটা পড়ে নিয়েন
আর ফিল কইরেন যে দুআটায় কাজ হচ্ছে!
আমি অনেক ইনস্ট্যান্ট ফল পেয়েছি!
১১ নম্বর পয়েন্ট: কাবা নিয়ে একটা লাস্ট কথা
আপনাদের ফ্লাইট যদি অনেক আগে হয়ে থাকে আর আপনার হোটেল যদি বাইতুল্লার কাছে হয় তাহলে একটা কথা মাথায় রাখবেন
প্রথম ৪ ৫ দিন অনেক ঈমানী জজবা থাকবে
দেন ধীরে ধীরে আস্তে আস্তে সেটা কমতে থাকে
একটা পর্যায়ে পার্টি মুড চলে আসে
মনে হবে নামাজটা হোটেলপরে ফেলি
একটু বাইরে থেকে করে আসি
এই টেম্পটেশন গুলো পারলে রোধ করবেন
বাইতুল্লাহ আসার সুযোগ নাও আসতে পারে
তাই যত সম্ভব টাইম তা ইউটিলাইজ করা
বাইতুল্লাহর ভিতরে গিয়ে নামাজ পড়ার চেষ্টা করবেন
হ্যা ঢুকতে আর বেরহতে অনেক টাইম কিল হয়
এর জন্যই অনেকে এই পন্থা বেছে নেন
তখন একটা কথা মনে রাখবেন
এমন অনেক মানুষ আছে যারা এই বাইতুল্লাহর জন্য হাহাকার করছে
কিন্তু এই ঘরের কাছে যাওয়ার সুজগ হচ্ছে না
আপনার হয়েছে আর আপনি তা গ্রাহ্য করছেন না
আল্লাহ কিন্তু নারাজ হয়ে যাবেন
মনে রাখবেন
বাইতুল্লাহতে বসে বসে কাবার দিকে তাকিয়ে থাকাটাও তো একটা ইবাদাহ
তাই একটু আগে চলে যান
একটা রাট কাটান বসে বসে
আরেকটা জিনিশ মাথায় রাখবেন
বাইতুল্লাহ ঢুকার সময় প্রতিবার বুদ্ধি করে ইতেকাফের নিয়ত করে ঢুকবেন
তাহেল যতক্ষণ থাকবেন
ইতিকাফে থাকার স্বাব পেতে থাকবেন
বাইতুল্লাতে বসে প্রতিদিন ইতেকাফ
বেপারটা কি সাংঘাতিক বুঝতে পারছেন?
১২ নম্বর পয়েন্ট: মিনায় অবস্থান
৮ জিলহজ থেকে মিনায় অবস্থান
ভুলে যাবে না
মিনায় থাকা কালীন কিন্তু আপনি এহরাম অবস্থায়
আর ইহরাম অবস্থায় ঝগড়া নিষেধ
তারপরেও তিনটি ক্ষেত্রে ঝগড়া এভোইড করা অলমোস্ট ইম্পসিবল
প্রথম ক্ষেত্র হলো নামাজ
মিনাতে মুসাফিরের হাফ নামাজ পড়বো না মুকিমের ফুল নামাজ পড়বো
আমার এডভাইস মিনাতে যাওয়ার পূর্বে নিজেদের মুয়াল্লেমের মধ্যে আগে থেকেই এ বিষয়ে ঐক্কতা নিয়ে নেন
দ্বিতীয় ক্ষেত্র হলো ওযু,
তারতীলের সাথে ওযু করতে গিয়ে হাজিরা অযথাই পানি আর সময় নষ্ট করে
নিজের চোখে দেখা
একজন হাজি প্রায় ৭ মিনিট লাগিয়ে ওযু করলো
পিছনে লাইনে যারা আছেন তাদের জামাত ছুটে যাবে এমন দশা
বাস শুরু ঝগড়া
চেষ্টা করবেন আধা লিটারের মদ্ধে দ্রুত উযু শেষ করতে
দরকার হলে এক বার এক বার করে করবেন
তারপরেও অন্যের ইনকনভেনিয়েন্স ক্রিয়েট করবেন না
তৃতীয় ক্ষেত্র: বিছানা
মিনাতে গিয়ে কে কোন পাশে শুবে সেটা নিয়ে লাগে আরেক ঝগড়া
ভাই যেখানে পাবেন আলহামদুলিল্লাহ বলে সেখানেই শুয়ে পড়বেন
এটা কোনো ভকেশনাল রিট্রিট না, স্পিরিচুয়াল রিট্রিট
১৩ নাম্বার পয়েন্ট: আরাফা
৯ তারিখে যখন আরাফাতে যাবেন মিনার মত আবার ঝগড়ায় লিপ্ত হবেন না
আজ সব থেকে গুতুপর্ণ দিন
হজ মানে আরাফা আরাফা মানেই হজ
সূর্য হেলার পর আরাফার ময়দান, আরাফার ময়দান হয়
সাধারণত দেখা যায়
মোয়াল্লেমরা জোহরের নামাজ শেষে বিশাল এক মোনাজাত ধরে
মোনাজাত শেষে অনেকে ভাবে হজ হয়ে গেসে
পার্টি মুডে চলে যায়, আড্ডায় বেস্ত হয়ে যায়
মনে রাখবেন
মোনাজাত শেষ হওয়া মানেই কিন্তু আরাফার দিন শেষ নয়, বরং শুরু
খুব ইম্পর্টেন্ট,
নিজেকে আপনার কাফেলা থেকে আলাদা করে ফেলুন
একাকী কোনো এক কাছের নিচে যান
অতীতের পাপ গুলো মনে করে চোখের পানি ফেলুন
আসরের সময় খোলা আকাশের নিচে গিয়ে দুই হাত তুলে আকাশের দিকে তাকিয়ে জোরে জোরে চাইতে থাকুন!
জীবনে এই দিনটি আর নাও পেতে পারেন!
সো মেক দা বেস্ট ইউস অফ ইট!
১৪ নম্বর পয়েন্ট: মুজদালিফায় রাত্রি যাপন
আরাফায় মাগরিব শেষে মাগরিব না পড়াটা একটা সুন্নাহ
বসে করে মুজদালিফায় যাবেন
এখান থেকেই শয়তানকে মারার জন্য পাথর কুড়িয়ে নিবেন
অনেকে ভাবেন রাস্তার উপর খোলা আকাশের নিচে কি ভাবে ঘুম আসবে?
ভাই, খোলা আকাশের নিচে চাদর বিছিয়ে জাস্ট পিঠ তা লাগিয়ে একটু চোখটা কোন রকমে শুধু বন্ধ করবেন
দেখবেন ফজরের আজান দিচ্ছে
কিভেব রাত পার হয়ে গিয়েছে টেরই পাবেন না
পৃথিবীর শ্রেষ্টতম ঘুম আমার এই রাতেই হয়েছিল!
১৫ নম্বর পয়েন্ট: আজ ১০ জিলহজ
লম্বা হাঁটার দিন
মুজদালিফা থেকে মক্কা
পথি মধ্যে শয়তান কে পাথর মারা
অতঃপর কোরবানি
এ যেন হজরত ইব্রাহিমের পথে পথ চলা
হাঁটার সময় অনেক বুড়ো বুড়ি দেখতে পাবেন
পারলে তাদের হেল্প করবেন
মুজদালিফা থেকে জামারা প্রায় ৭ কিলো
আবার জামার থেকে কাবা আরো ৬ কি ৭ কিলো
সাথে আছে তাওয়াফ আর সা ই
সব মিলিয়ে সারা দিনে মোটামোটি ২৫ থেকে ৩০ কিলো হাটা
শুনতে ভংঙ্কর হলেও ওই সময় কেন জানি তা খারাপ লাগে না
জন স্রোতে স্রোতে হয়ে যায়
জেনে রাখা ভালো
জামারাতে পাথর মারার পর কিছুদূর হেটে গেলেই লোকালরা প্রাইভেট গাড়ি দিয়ে বাইতুল্লাহ পর্যন্ত ট্রিপ দেয়
বাইক যদি পান তাহলে আরো ভালো
১০০ রিয়াল নিতে পারে
আমার এডভাইস উঠে পড়ুন
১৬ নম্বর পয়েন্ট: শয়তান কে পাথর মারা
শয়তান কে দেখেলে অনেকেরই মাথা ঠিক থাকে না
এর মাথার উপর দিয়ে, ওর মাথার উপর দিয়ে
পাথর তো মারেই পারলে জুতা খুলেও মারে
প্রথম কথা,
আমরা পাথর মারার মূল অবজেকটিভ কি!
মূল অবজেকটিভ হলো:
ইব্রাহিম আ যেমন শয়তানের ওয়াসওয়াসায় এক্ট করে নি
আমরা তার ওয়াসওয়াসায় এক্ট করবো না!
যদি শয়তান কে কষ্ট দিতেই হয়
তাহলে সে যেটায় কষ্ট পায় সেটা করেন
৭ টি কঙ্কর মারার আগে ৭টি বড় বদ অভ্যাস লিস্ট করেন
আর এক একটা পাথর মারার আগে নিজেকে প্রমিস করেন
আজ থেকে এক একটা বদ অভ্যাস ছেড়ে দিলাম চিরতরে
লিস্ট বড়? নো প্রব্লেম
আগামী দুই দিন আরো ৪২ টি পাথর মারার সুযোগ আসতেসে
লিস্ট বানাতে থাকুন আর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন!
দ্বিতীয় কথা
জামারা দেখতে মাছের মতো
সবাই মাছের মাথার কাছে গিয়ে ভিড় করে, আর ধাক্কাধাক্কি করে
অথচ লেজের কাছে পুরা ফাঁকা
মারলে পিছনে গিয়ে আরাম করে মারেন!
১৭ নম্বর পয়েন্ট:
মক্কায় পৌঁছে হোটেল থাকলে রেস্ট করেন
কুরবানীর খবর আসলে মাথা মুণ্ডান
বিকালে ধীরে শিরে তাওয়াফ আর সা ই শেষ করে ফেলুন
রাতে মিনায় ফিরে আসুন
কারণ ভুলে যাবেন না আগামী ২ তিন দিন মিনাতেই থাকতে হবে
বলে রাখা ভালো
পরবর্তী দিন গুলোতে আপনি কিন্তু মিঞা থেকে জামারায় মেট্রো দিয়ে যেতে পারেন
জি মেট্রো আছে, এবং তা ব্যাবহারও করতে পারবেন
১৮ নম্বর পয়েন্ট:
হজ রিলেটেড কথা বার্তা শেষ এবার কিছু আনইম্পর্টেন্ট কথা
ফর ফুড লাভার্স:
ক্লোক টাওয়ার আর মক্কা টাওয়ারে আছে বিশাল ফুড কোর্ট
নামি দামি সব ব্রান্ডের ফুড এক্সপ্লোর করতে পারেবন সেখানে
সাফা টাওয়ারের আছে মজার দেশি খাওয়া দাওয়া
তাওয়াফ শেষে যদি মনে হয় একটু এনার্জি রেগেইন করা দরকার
তাহলে খুব ভালো ভাবেই তা করে নিতে পারবেন
ফর বুক লাভার্স:
ক্লোক টাওয়ার আর মক্কা টাওয়ারে আছে বড় দাওয়া সেন্টার
দারুস্সালামের এই কেচি বই এখানে পাবেন
জাস্ট মাথায় রাখবেন
বই গুলো বেশ এক্সপেন্সিভ
শপিং:
হজ শেষে অনেকেই প্রিয়জনের জন্য খেজুর বা চকলেটস কিনে আন্তে চান
আমার এক্সপেরিএন্স বলে
মক্কার শপিং মূল গুলো মদিনা থেকে মোর এনরিচড
কিনতে যদি হয়ই তাহলে মক্কাতেই সেরে ফেলেন
তবে অবশ্যই হজের শেষে
আর ফর গোল্ড?
চোখ বন্ধ করে মদিনা!
তবে জাস্ট একটা জিনিস মাথায় রাখবেন
যখনি মার্কেটে যাবেন
মার্কেটের দুয়াটা পরে নিবেন
আফটার অল প্রতি ভিসিট
১০ লক্ষ্য নেকি কেন হাতছাড়া করবেন!
-সমাপ্ত-
পরিশেষে বলি
যারা যাচ্ছেন তাদের কাছে আকুল বিনতি
এই গুণাগঁগ্যারের জন্য একটু দুআ করবেন
যেন
নাফ্স কে পরিশুদ্ধ রাখতে পারি আর
যেই পারপাস অব্জেটিভ টাস্ককে মাথায় রেখে স্রষ্টা সৃষ্টি করেছেন
সেই টাস্ক গুলো যেন সঠিক ভাবে সম্পন্ন করে যেতে পারি!
সালাম!
Share: