মেন্টাল মডেল পার্ট ৭

শয়তান নামাযে ভুল করাবেই আর এ জন্যই বোধয় সাহু সিজদা
রমাজন আসায় তাই প্রশ্ন
শয়তান তো শিকল বন্দি তাহলে এখনও কেন ভুল হচ্ছে? [১]
প্রথম কথা,
শয়তান শিকলে বন্দি তার মানে কিন্তু এই নয় যে তার ইনফ্লুয়েন্স নেই।
একটা খোলা বাঘ আর শিকল বন্দি বাঘ হয়তো এক নয়, তবে কাছে গেলে দুটোই ভয়ঙ্কর
হয়তো একারণেই আল্লাহ বলেছেন “শয়তানের দাসত্ব করোনা [২] আবার বলেছেন “শয়তানের পথও অনুসরণ করো না [৩]
বলেছেন অশ্লীলতা করো না [৪] সাথে বলেছেন “তোমরা অশ্লীলতার ধারে কাছেও যেয়ো না” [৫]
কারণ তিনি জানেন কাছে গেলেই বিপদ, এর আলাদা এক মধ্যাকর্ষণ শক্তি আছে যা থেকে নিজেকে টেনে আনা প্রায় অসম্ভব!
আসি দ্বিতীয় কোথায়, নামাযে মনোযোগ
আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই একটা বিরামহীন সাথী আছে, যে সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত অনর্গল বকবক করেই যাচ্ছে, এ এক অনিবার্য যন্ত্রনা, ওয়েস্টার্ন সাইকোলজিস্টদের ভাষায় সাথীটি হলো মেন্টাল চ্যাটার আর কোরানের ভাষায় “কারিন” [৬]
এই মেন্টাল চ্যাটার/ কারিন জীবনের সবকটি ক্ষেত্রেই আমাদেরকে বশ করে রেখেছে
এই ধরুন,
পছন্দের একটা গান শুনছেন, অথচ খেয়ালি করেন নি কখন গানটা শেষ হয়ে গেলো
একটা টিউটোরিয়াল দেখছেন, অমনি পাশের সাজেস্টেড ভিডিও দেখার জন্য মন ছটফট করে উঠলো
ড্রাইভ করছেন, খেয়ালিই করেননি কোন সময় টার্ন পিছনে ফেলে এসেছেন
অথবা, নামাজ পড়ছেন, খেয়ালি নেই, দ্বিতীয় রাকাত না তৃতীয় রাকাতে আছেন
এ যদি আপনার জীবনের গল্প হয়ে থাকে,
তাহলে বলতে হবে আপনার মেন্টাল চ্যাটার বা কারিন বেশ ভালো ভাবেই আপনাকে জব্দ করে রেখেছে.
এই মেন্টাল চেটার আপনাকে বার বার অটো পাইলট মুডে নিয়ে যাচ্ছে আর আপনিও সেটা ভালোবাসছেন কারণ এতে আপনার তো চিন্তা শক্তি কম খরচ হচ্ছে
এই মেন্টাল চেটারটিই হচ্ছে আপনার ইন্টারনাল মনোলোগ, তাকে না পারবেন মারতে, না পারবেন চুপ করাতে
তবে তাকে বশ করা জন্য একটা টুল ব্যবহার করতে পারেন
আর তা হলো
“আওয়ার্নেস” বা “মাইন্ডফুলনেস”, কোরানের ভাষায় “তাকওয়া”
যে মুহূর্তে আপনি “মাইন্ডফুলি” মেন্টাল চ্যাটার কে অব্জার্ভ করবেন, সেটা গায়েব হয়ে যাবে
পার্সোনাল গ্রোথ বা সেলফ হেল্প বইগুলোর বেশির ভাগ বই গুলোতে আপনাকে অটো পাইলট মুড্ থেকে বের হয়ে প্রেসেনসে আসার কথা বলে. বলে যে, যদি তা করতে পারেন তাহলে আপনার জীবন সফল হয়ে উঠবে।
ইন্টারেস্টিংলি নামাজের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো আপনি যেন মাইন্ডফুল হতে পারেন অর্থাৎ সফল বা সাকসেসফুল হতে পারেন
তাই অবাক হই না, যখন নামাযের সময় হলেই মুজ্জিন বলে উঠেন
“হাইয়া আলাল ফালাহ” যার লিটারেল অর্থ হলো ”তোমরা সফলতার দিকে আসো”
রাসূলুল্লাহ তো বলেই গিয়েছেন
“আমি দুনিয়া এবং আখিরাত, দুজায়গারই সফলতা নিয়ে এসেছি “
আর আপনি যখন আল্লাহর ঘর তাওয়াফ করেন, কোন দুয়াটা পড়েন জানেন?
“হে আমার রব, তুমি আমাকে দুনিয়াতেও দাও, আখিরাতেও দাও”! [৭]
আসি তৃতীয় কোথায়, আমরা নামাযে কি ভাবে মাইন্ডফুল হতে পারি?
ধরুন আপনি নামাযে আছেন আর অটো পাইলট মুডে ফুল স্পীডে ফাতিহা পড়ে যাচ্ছেন?
তখন একটু ব্র্যাক চাপুন, মাইন্ডফুলি নিজেকে প্রশ্ন করুন, আচ্ছা এই মুহূর্তে আমি কার সামনে দাঁড়িয়ে আছি? কি পড়ছেন অর্থটি বুঝার চেষ্টা করুন।
লক্ষ করুন মেন্টাল চ্যাটার গায়েব হয়ে যাচ্ছে
নামাযের সব থেকে দুর্বল পয়েন্ট- রুকু, যেখানে একটু ধাক্কা দিলেই আপনি পরে যাবেন, সেখানে কি পড়ছেন?
পড়ছেন “সুবহানা রাব্বি আল আজিম”
অর্থ “আমার রব সব থেকে পবিত্র, সব থেকে শক্তিশালী” চিন্তা করুন আজিমের কাছে মাথা নত করে রেখেছেন।
লক্ষ করুন মেন্টাল চ্যাটার গায়েব হয়ে যাচ্ছে
সব থেকে নিচু পয়েন্টে-সেজদা, সেখানে কি পড়ছেন?
পড়ছেন “সুবহানা রাব্বিয়াল আলা” অর্থাৎ “আমার রব সব থেকে পবিত্র, সব থেকে উঁচু ” , চিন্তা করুন “সর্ব উঁচু যিনি, তাকে সেজদা করছেন?
লক্ষ করুন মেন্টাল চ্যাটার গায়েব হয়ে যাচ্ছে
আরেকটি টেকনিক, স্বয়ং আল্লাহই বলে দিয়েছেন
“যখন কিয়ামুল লাইল পর্বে [শেষ ভাগের রাতের নামাজ] তখন কোরান আস্তে আস্তে থেমে থেমে পড়বে” [৮]
তাফসীরে পেয়েছিলাম, এই আয়াত যখন অবতীর্ণ হয়েছিল তখন রাসূল দুই আয়াতের মাঝে অনেক বেশি থেমে থেমে কিরাত পড়তেন!
যখনি মেন্টাল চেটার বিরক্ত করা স্টার্ট করে তখনই এই তারতীল এপ্লাই করি, সাথে সাথে চেটার দূর হয়ে যায়, কারণ ব্রেইন তখন অটো পাইলট মোড থেকে বের হয়ে মাইন্ডফুল মুডে চলে আসে
রমজানের বাকি রাত্রি গুলোতে কিয়ামুল লাইল এভাবে পড়ে দেখতে পারেন, আশা করি সুফল পাবেন
এতে আপনার মাইনফুলনেস এক্সারসাইজ হয়ে যাবে আর আপনার নামাজেও খুশু বা স্বাদ ফিরে আসবে।
ফেক্ট: যারা তাকওয়ার সাথে চলেন তাদেরকেই কিন্তু মুত্তাকী বলা হয়
তাই সবার জন্য দুআ:
“আমরা যেন সবাই মুত্তাকী হতে পারি আর নামাজে খুশুর সাথে দুনিয়া ও আখিরাতে দুই জায়গাতেই সফল হয়ে উঠতে পারি!!!
আমিন!
[১] সহি বুখারী ৩২৭৭
[২] কুরআন ৩৬:৬০
[৩] কোরান ২৪:২১
[৪] কুরআন ২৪:২
[৫] কোরান ১৭:৩২
[৬] কোরান ৪৩:৩৪
[৭] [কোরান ২:২০১]
[৮] কুরআন ৭৩:১-৪
Share: