ইতিকাফ

ফাস্ট পেস মডার্ন যুগে সবাই যখন ছুটতে ছুটতে ক্লান্ত
লাক্সরিয়াস কোনো রিসোটের এস্কেপ প্লেনও যেখানে ব্যর্থ
তখন দরকার বোধ করি এক স্পিরিচুয়াল রিট্রিট এর
দরকার বোধ করি একটা এফেক্টিভ টাইম ব্লকিং ফ্রেমওয়ার্ক এর
এমন একটা একটিভিটি যেটা আপনার মেন্টাল, ফিজিক্যাল এবং স্পিরিচুয়াল হেলথ এনসিউর করবে
তেমনি একটা স্পিরিচুয়াল একটিভিটি হলো “ইতিকাফ”
ইতিকাফ রাসূল জীবনে ছেড়েছেন বলে আমার জানা নেই!
প্রতি রমজানের শেষ ১০ দিন তিনি নিজেকে মসজিদে আলাদা করে রাখতেন!
ছোট বেলায় একটা সময় ছিল যিখন দেখতাম ইতিকাফের জন্য মানুষজন ডেকেও পাওয়া যাচ্ছে না
আর এখন চিত্র উল্টো
উল্টো মসজিদে মসজিদে ইতিকাফের জন্য এখন লিটারেলি আগে থেকে এপ্লাই করতে হয়
আগে বুড়ো চাচাদেরকেই বেশি দেখ যেত, এখন যুবকদেরই যেন দৌরাত্ম!
এই স্পিরিচুয়াল একটিভিটিটি আস্তে আস্তে বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে
এই একটিভিটি এখন অনেকই করতে চাচ্ছেন
তবে এমন অনেক আছে
যারা ইতিকাফ করতে চাচ্ছেন বাট সময়ের অভাবে পারছেন না
অথবা ইচ্ছে হচ্ছে, কিন্তু কেন জানি সাহসে কুলাচ্ছে না
তাদের জন্য বলছি,
আপনাদের জন্য আরেকটা অপশন আছে
আপনারা “নফল ইতিকাফ” দিয়ে স্টার্ট করতে পারেন
সাহাবারা স্মার্ট ছিলেন,
তাঁরা টাইমের ম্যাক্সিমাম ইউটিলিজেসন করতেন
তাঁরা যখনি মসজিদে ঢুকতেন,
মনে মনে নফল ইতিকাফের নিয়ত করে নিতেন
অর্থাৎ
যতক্ষণ মসজিদে থাকতেন, ইতিকাফ অবস্থায় থাকতেন
আপনি এই এপ্রোচটি নিতে পারেন
ফরজ গুলো জামাতে গিয়ে পড়ার চেষ্টা করুন,
ঢুকার আগে ইতিকাফের নিয়ত করে ঢুকে পড়ুন
নামাজ শেষে, ইফ পসিবল এক্সট্রা ১০ মিনিট বসে থাকুন
কিছু না, জাস্ট চিন্তা করুন
স্রষ্টা কে? কেন এসেছি? কথায় যাচ্ছি? আমার পারপাস কি? কিভাবে মানুষকে হেল্প করতে পারি?
এটা এক বিশাল আমল!
আর রমজানে যেহেতু কদর পাওয়ার একটা সম্ভাবনা থেকেই
পারলে রাত ১০ টার দিকে তারাবি শেষ হলে
দু ঘন্টার জন্য চলে যান
২৭ এর জন্য ওয়েট করবেন না প্লিস
কারণ, ধরুন কদর ২৭এই এলো, তাহলে কোন ২৭ ধরবেন?
সৌদির ২৭ না বিডির ২৭
যদি সৌদির ২৭ হয়ে থাকে,
জিব্রাইল আমিন তো ফেরেস্তাদের দল বল নিয়ে এসে চলে গেলেন
আপনি কিন্তু ধরা!
আপনার ৮৩ বছর ইবাদাহর চান্স মিস হয়ে গেলো!
সো পারলে প্রতি দিন অল্প অল্প করে স্প্লিট করে নিন
সেফার এপ্রোচ!
পাশাপাশি আরো একটা হেবিট ইনস্টল করার ট্রাই করুন
আপনার স্মার্ট ফোনটি রেখে যাওয়ার চেষ্টা করুন
কারণ
ইতিকাফের শাব্দিক অর্থ যদি দেখেন,
দেখবেন এটা এসেছে আইন-কফ-ফা থেকে
যার অর্থ হলো
“কোনো কিছু কমিট করে, ধরে থাকা”
“নিজেকে নির্জন করা”
“বিচ্ছিন্ন করা”
“কিছুক্ষনের জন্য প্রত্যাহার করা”
“একটি জায়গায় নিজেকে আটকে রাখা”
“সংযত করা”
আর এই সব কয়টি বিষয়ই বেত্তয় ঘটে যখন আপনি আপনার স্মার্টফোনটি ২৪ ঘন্টা সাথে নিয়ে ঘুরেন
“একটা নোটিফিকেশন আসতেই মাথা নষ্ট”
অথবা
“কারিন একটা আইডিয়া থ্রো করলেই, বাস, হয়ে গেলো”
ফোনটা তখন হাতে নিতেই হবে!
এ যেনো এক মাতাল নেশা!
এবং এভেরিটাইম আপনি সেটা করেন,
সেটা আপনার ফোকাস সরিয়ে ফেলে এবং আপনার এনার্জি ড্রেইন করে!
নো ওয়ান্ডার আমরা কেন এতো ড্রেঞ্চড বা স্ট্রেসড থাকি!
আমাদের দরকার ১০ মিনিটের একটা ব্র্যাক বা টাইম ব্লকিং
যেন আমরা আমাদের এনার্জি লেভেল টা রিগেইন করতে পারি
এটা এপ্লাই করলে দেখবেন
আপনার প্রোডাক্টিভিটি
আপনার ক্রিয়েটিভিটি
এবং আপনার এনার্জি লেভেল
সব কোটাতে একটা বুস্ট এসেছে!
এপ্লাই করে দেখতে পারেন,
আমি অনেক ফল পাচ্ছি
সো যদি সামারাইজ করি:
১. নামাজ গুলো জামাতে গিয়ে পড়ুন
২. ফোনটা রেখে যান
৩. ঢোকার পূর্বে ইতিকাফের নিয়ত করে ঢুকে পড়ুন
৪. নীরবে একাকিত্বে কিছুক্ষন চিন্তা করুন
সিম্পল!
Share: