বাপ্ দাদাদের দেখে আসছি, তারা কি ভুল ছিল?
১৮স শতাব্দীতে ইউরোপে পুয়েরপেরাল জ্বর বা ব্ল্যাক ডেথ অফ চাইল্ডবেড নামক এক মরণবেধি মায়েদের পেয়ে বসে
অলমোস্ট ৭০% মায়েরা ডেলিভারির সময় মারা যেতে থাকে
কেউ যখন কোনো সুরাহা করতে পারছিল না
তখন অলিভার ওয়েন্ডেল নামক এক ডক্টর একটা বোমা ফাটানো আর্টিকেল লিখেন
তিনি উল্লেখ করেন
“ডাক্তাররা রাতে অটোপ্সি করতেন আর দিনে হাত না ধুয়েই অপেরাসনের করতেন”
আর এতেই মায়েরা কন্টামিনেটেড হয়ে মারা যাচ্ছিলেন
অর্থাৎ তিনি ডাক্তারদেরকেই দোষারপ করলেন
পুরো ডাক্তার কমিউনিটি তখন তার এগেইনস্ট চলে গেলো
প্রায় এক যুগ ধরে তাকে হেনস্ত করলো
আর অন্যদিকে মৃত্যের সংখ্যা বেড়েই চললো
অবশেষে
প্রায় এক যুগ পর গিয়ে যখন ইগনাজ সেমেলউইস নাম আরেকজন ডাক্তার তাদের এভিডেনটিয়াল ডাটা দিয়ে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন
তখন গিয়ে তাদের টনক নড়লো
তখন গিয়ে তারা হাইজিন এর উপর ফোকাস করলো
হাইজিন নিয়ে মেডিক্যাল ফিল্ডে একটা শিফট আসলো
এই যে দৃষ্টিকোণের শিফট এলো এটাকে সাইকোলোজির ভাষায় বলে “পেরাডাইম শিফট”
অর্থাৎ আপনার মেন্টাল মডেলে যেই ইনফরমেশন বেংক আছে
যেই ইনফরমেশন বেংকের ভিত্তিতে আপনি দুনিয়াকে দেখছেন
সেই বেংককের ইনফরমেশন গুলো আপগ্রেড করে সোসাইটেল দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানোটাই হচ্ছে পেরাডাইম শিফট
কালে কালে প্রতিটি সোসাইটি কোনো না কোনো শিফট এক্সপেরিয়েন্স করে আসছে
যেমন
একটা সময় ভাবা হতো প্রথিবী ফ্লাট
ভাবা হতো সূর্য প্রথিবীর চার পাশে ঘুরে
ভাবা হতো জার্মের কারণে কেউ মারা যায় না
আজ সেই প্রচলিত ইনফর্মেশন গুলো কার্রেক্টেড হয়ে শিফট এসেছে
হয়েছে তো হয়েছে তবে তা হয়েছিল অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার পর
যুগে যুগে যেসব মনীষীই এই শিফট নিয়ে কাজ করেছেন
হয় তাদের গালি খেতে হয়েছে অথবা জীবন পর্যন্ত দিতে হয়েছে
তাদের প্রত্যেকে একটা কমন কমপ্লেইন ফেস করতে হয়েছিল
“যুগ যুগ ধরে বাপ্ দাদাদের দেখে আসছি, তারা কি ভুল ছিল?”
অথচ ভেবে অবাক লাগে এই ভেবে যে
তারা ছিল ডাক্তার, রেনেসাঁ যুগের বিজ্ঞানের ধারক বাহক
তাদের কাছেই নতুন ইনফরমেশন হজম করতে বেগ পেতে হয়েছিল
বাকিদের কথা আর কি বা বলবো?
কমপ্লেইন কি শুধু কি সাইন্টিফিক কমিউনিটিতে ছিল?
রিলিজিয়াস কমিউনিটিতে তো এটা ছিল আরো ভয়ঙ্কর!
ভুল বেখ্যার কারণে কত শত নারীকে যে এই দেশে আগুনে দগ্ধ হতে হয়েছে তার কি কোনো কাউন্ট আছে?
স্রষ্টার বানিতেও আমরা জানতে পারি
যখনি কোনো পয়গম্বর আপডেটেড ইনফরমেশন দিয়ে এসেছিলেন
তাঁদেরকেও ফেস করতে হয়েছিল সেই একই কমপ্লেইন:
“যুগ যুগ ধরে বাপ্ দাদাদের দেখে আসছি, তারা কি ভুল ছিল?”
আর হজরত ঈসা কে তো পন্ডিতরা শুলেই চড়িয়ে ক্ষান্ত হয়ে ছিলো!
আর রাসূল?
উঁনার কথা তো সবাই জানি
কি আন বিআরেবল রেসিস্টেন্সই না উনাকে পোহাতে হয়েছিল
কারণ ওই একটাই
“যুগ যুগ ধরে বাপ্ দাদাদের দেখে আসছি, তারা কি ভুল ছিল?”
আজ যখন ইতিহাসের পাতা উল্টাই
হয়তো তাদের গোড়ামি আমাদের রাগিয়ে তুলে
হয়তো ভাবি, ইশ এতো বোকা কেন তারা ছিল?
অথচ কখনো এটা ভেবে দেখিনি যে
গোড়ামি কিন্তু আমাদের মাঝেও আছে, আজও!
বিস্বাস হচ্ছে না?
আজও যদি কোনো মফস্সলের ইমাম নামাজ শেষে দুআ না পড়ে উঠে যায়, চাকুরী থাকবে?
আজও যদি হুজুর মিলাদ না পড়ান, তার পেটে কি ভাত জুটবে?
আজও কি অনেক অনেক অঞ্চলে যৌতুক না নেয়াটা বোকামি ভাবা হচ্ছে না?
আজও কি সুফির দরবারে গিয়ে মানুষ ভিক্ষা চাচ্ছে না?
মানা করলে কি তারা শুনবে?
এগুলো কি?
গোড়ামি নয়?
এতো গেলো কালচারাল গোড়ামি
ইন্ডিভিডুয়াল ক্ষেত্রে?
আজকে যদি কোনো মা বোনকে বলেন
“সিজদায় মাটিতে কোনি বিছানো যাবে না”
দেখেন না কয় জন মানে?
আজকে যদি কোনো ভাই কে বলেন
বুখারীতে তো পেলাম রাসূল নামাজ ওভাবে পড়তেন
দেখেন না কয় জন মানে?
উত্তর সেই পুরানো
“যুগ যুগ ধরে বাপ্ দাদাদের দেখে আসছি, তারা কি ভুল ছিল?”
জি ভাই, ছিল!
এখন আপনি কি বলবেন?
মাজহাবে নাই?
মাজহাবের দোহাই দিয়ে ইমাম এ আজমদের ইনসাল্ট করবেন না প্লিস
উনারা অনেক সম্মানিত অনেক উঁচু দরের অনেক বড় আলেম ছিলেন
উনাদের জানার ব্যাপ্তি ছিল বিশাল
তারপরেও উনারা বলে গিয়েছিন
“যদি কোনো সহি হাইড্স পাও সেটা আমার মাঝহাবে অন্তর্ভুক্ত”
তাই আবার জিজ্ঞেস করি
এখন আপনি কি বলবেন?
একই ভুল কন্টিনিউ করবেন?
নাকি নিজের ইনফরমেশন ব্যাংক আপগ্রেড করবেন?
নাকি চান আপনার ছেলে বা নাতিরাও বলুক
“বাপ্ দাদাদের দেখে আসছি, তারা কি ভুল ছিল?”

Leave a Comment