ইনটেনশন
ক্লেভ বাক্সটার এক রিটায়ার্ড সি আই এ অফিসার এবং লাই ডিটেক্টর এক্সপার্ট
১৯৬৬ সালে তিনি একটা ইন্টারেষ্টিং এক্সপেরিমেন্ট কন্ডাক্ট করেন
তিনি দেখতে পান
যখনি তিনি গাছের সাথে লাই ডিটেক্টর লাগিয়ে গাছটিকে কাঠি জ্বালিয়ে আগুন লাগাতে উদ্যোত হতেন
তখনি লাই ডিটেক্টরটি শার্প ভাবে রেস্পন্ড করা শুরু করতো
আগুন লাগানোর প্রয়োজন হতো না
তার এই গবেষণা সেই সময়ে বেশ সারা ফেলেছিল
অন্যান্য সাইন্টিস্টরাও একই এক্সপেরিমেন্ট রিপিট করার চেষ্টা করেন
তারাও গাছের সাথে লাই ডিটেক্টর লাগিয়ে ম্যাচে আগুন ধরায়
কিন্তু লাই ডিটেক্টর আর চিৎকার চেঁচামেচি করে না
তারা অবশেষে ক্লেভ বাক্সটারের কাছে এর এক্সপ্লানেশন জানতে চায়
উত্তরে ক্লেভ বলেন
“তোমরা কি জাস্ট ম্যাচ জ্বালিয়েছো?
আগুন লাগানোর কোনো ইন্টেন্ড করোনি?”
গাছে আগুন দেয়ার ইন্টেন্ড যদি না করো তাহলে কাজ হবে না!
বিষয়টা ইন্টারেষ্টিং
কারণ বুখারীর প্রথম হাদিস
“ধর্মের প্রতিটা কর্মই মাপা হবে ইন্টেনডের উপরে”
অথচ এই ইনটেনশনই ছিল এতদিন মেটা সাইন্স হয়ে
এই প্রথম বোধহয় তাকে সাইটিফিকালি কেপচার করা গেলো
কেন তুললাম প্রসঙ্গ?
ওই দিন একজন প্রশ্ন করলেন
ভাইয়া,
রুকু দেয়ার সময়
দৃষ্টি কি পায়ের নখে থাকবে নাকি সেজদার জায়গায়?
উত্তর দিলাম
কোনোটাই না,
ইন্টেনডে থাকবে?
মানে?
বললাম:
আপনি যখন কাউকে সম্মান করে মাথা ঝুকান
মনোযোগ কি, মাথা কয় ডিগ্রী নোয়ালেন সেখানে থাকে নাকি আন্তরিকতায়?
আন্তরিকতায় থাকে ভাইয়া
বললাম
রুকুটাও সেম
নামাজ তো আমরা এখন অটো পাইলট মুডে সেরে ফেলি
সূরা শেষ, ধাম রুকু স্টার্ট
এ যেন একটা ট্রিগার পয়েন্ট
আর এই জন্যই বোধহয় আমরা রুকুর এসেন্সটি হারাতে বসেছি
আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে
আপনার রুকুটা যেন জাস্ট কোন নেক্সট অটোমেটিক স্টেপ না হয়
আর খেয়াল রাখতে হবে
সূরা শেষে এবং রুকুর পূর্বে
এক বা দুই সেকন্ডের একটা পস নেয়ার
অনেকটা অলিম্পিকের সেই সুইমারদের মতো
সুইমাররা কিন্তু পোডিয়ামে দাঁড়িয়েই সাথে সাথে ঝাঁপ দেয় না!
এক দুই সেকেন্ড পস নেয়!
মাইন্ডটাকে ফোকাস করে
বড় বড় নিঃশাস ফেলে
এবং ফাইনালি,
যখন ইনটেনশন লোক হয়ে যায়,
তখন গিয়ে ডাইভ দেয়.
ওই সুইমারদের মতোই
রুকুতে যাওয়ার আগে মাইন্ডটাকে লোক করুন
একবার ভাবুন
কার সামনে মাথা ঝুকাতে যাচ্ছেন?
দেখবেন নিঃশাস আপনা আপনি ভারী হয়ে উঠেছে
এবার রুকুতে যান
গিয়ে আবার মাইন্ডফুলই ভাবুন
কার সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে আছেন
আর
এই মুহূর্তে আপনি কি তাসবীহ বলে যাচ্ছেন
খেয়াল করুন যে
আপনি এই মুহূর্তে সব থেকে দুর্বল পজিশনে দাঁড়িয়ে আছেন
যেখানে যে কেউ হালকা ধাক্কা দিলেই আপনি পরে যাবেন
সেখান থেকে ঘোষণা দিচ্ছেন যে
“সকল পবিত্রতা সেই রবের যিনি আজিম, যিনি সর্ব শক্তিমান!
শ্রদ্ধায় দেখবেন চোখের কর্নার এমনিতেই ভিজে উঠছে
তখন আর মনে প্রশ্ন জাগবে না
দৃষ্টি কি পায়ের নখের দিকে রাখবেন নাকি সিজদার জায়গায়!
উত্তর সমাপ্ত!
(একই স্ট্রেটেজি নামাজের অন্যান ক্ষেত্রে প্রয়োগ কিভাবে করতে পারি জানতে চাইলে এগিয়ে যেতে পারেন)
একই ভাবে,
সেজদা দেয়ার আগে একটা পস দেন,
মাইন্ডফুলই ভাবেন
কাকে সেজদা দিতে যাচ্ছেন
ইন্টেন্ড লোক করেন
লোক হলে সেজদায় যান
সেজদা রত অবস্থায় আবার মাইন্ডফুলি ভাবেন
কাকে সেজদা দিয়ে আছেন
আর এই অবস্থায় তাকে কি বলে যাচ্ছেন?
খেয়াল করুন যে
আপনি এখন সবথেকে নিচু পজিশনে আছেন
আর ঘোষণা দিচ্ছেন যে
“সকল পবিত্রতা আমার রবের যিনি আলা অর্থাৎ যিনি সব থেকে উঁচু!
দেখবেন শ্রদ্ধায় গাঁয়ে কাটা দিয়ে উঠছে
একই ভাবে
দু সেজদার মাঝেও পস দিন
খেয়াল রাখবেন
সেকেন্ড সেজদাটা যেন আবার মোমেন্টামের মুখস্ত সেজদা না হয়ে যায়
দেয়ার আগে আবার ইনটেনশন লোক করেন
সেম জিনিস রিপিট করেন
ফাইনালি, শেষ বৈঠকের প্রস্তুতি নেন!
তাশাহুদ ও দরূদের পর খানিকটা সময় বসে থাকেন না একটু!
সালাম ফিরানোর এতো তারা কেন আপনার?
চাইতে থাকুন না আপনার প্রয়োজনগুলো তাঁর কাছে
আর একবার একটু ভাবুন না
কার সামনে বসে থাকার প্রিভিলেজড হচ্ছে এই মুহূর্তে?
সারা জাহানের সব থেকে ক্ষমতাধর সত্তার সামনে বসার সুজুগ হচ্ছে আপনার!
সুযোগটা কাজে লাগান
অবাক হয়ে লক্ষ্য করবেন যে
দেহটা আপনাআপনি আড়ষ্ট হয়ে আসছে
দৃষ্টি অটোমেটিক অবনত হয়ে যাচ্ছে
মনে আর সেই প্রশ্নটা একদমই নাই
দৃষ্টি কি উরুতে রাখবো না সেজদার জায়গায়!

Leave a Comment