ইলহাম!

মার কোলে ফুটফুটে সদ্য ভূমিষ্ট পুত্র
অথচ মুখে হাসির বদলে কপালে চিন্তার ভাঁজ
কারণ একটু পরই সৈনিকরা এসে হাজির হবে
যদি জানতে পারে যে ছেলে সন্তান প্রসব হয়েছে
তাহলে উঠিয়ে নিয়ে চলে যাবে
কারণ এটাই রাষ্ট্রীয় পলিসি:
“ঘরে কোনো পুরুষ সন্তান জন্ম নিতে পারবে না”
একথা ভাবতেই দরজায় ধাক্কা পড়লো:
দরজা খুলেন!
অজান্তেই ভয়ে সন্তানকে বুকে চেপে ধরলেন
আর ঠিক তখন এক্সপেরিয়েন্স করলেন এক অদ্ভুৎ ইলহাম
এক ভয়ঙ্কর অযোক্তিক চিন্তা
ঘোরের মধ্যে কাঁপা কাঁপা হাতে নব্য ভুমিষ্ট সন্তানকে একটা বাক্সও শুয়ালেন
কপালে চুমু দিয়ে সিক্ত নয়নে খরস্রোতা নদীতে ভাসিয়ে দিলেন!
নিয়তির কি নির্মম পরিহাস,
ভাসতে ভাসতে বাক্সটিও গিয়ে ভিড়লো সেই রাজার রাজ্ প্রাসাদেই
পড়লো তও তার বৌয়ের হাতে
বাক্সটি খুলতেই
তার বিবিও যেন পেলেন আরেক ইলহাম
তাঁর হৃদয় উল্টো মমতায় ভোরে উঠলো
বাবুটাকে জড়িয়ে নিলেন
সাথে মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলেন
এ ছেলেকেই তিনি পালা করবেন!
এটা কোনো ডিসনি বেড টাইম স্টোরী না
প্রাচীন মিশরে পানি কে “মু” বলা হতো আর ছেলেকে “সা”
অর্থাৎ পানিতে কুড়িয়ে পাওয়া সেই ছেলেটিই পরবর্তীতে বিখ্যাত হন মু’সা আ: হিসেবে!
এ হলো ইলহামের জোর!
ভাবছেন এই ইলহাম বিষয়টি কি?
এটি হলো আল্লাহর এক কমিউনিকেশন টুল
এটি হলো সেই ছোট ছোট আইডিয়াস বা নাজেস যা আমরা প্রায়ই এক্সপেরিয়েন্স করে থাকি
যেমন নতুন কোনো বিসনেস আইডিয়া অথবা কাউকে কল করার বা মিট করার আরজ
এই ছোট ছোট নাজেস গুলো আমাদের কে পসিটিভ স্টেপ নিতে ইন্সপায়ার করে
আমাদের সবার মধ্যেই এই ইলহামের সুযোগ ঘটে
কেউ সেটা রেকগনাইস করতে পারি আর কেউ পারি না
অথচ যদি একবার রেকগনাইস করতে পারেন
তাহলে আপনার জীবনে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে
এই ইলহাম যে কত বড় এক হিতকরী টুল,
তা আপনি এক্সপেরিয়েন্স না করলে উপলব্ধি করতে পারবেন না.
আমি প্রায়ই এটা গাইডেন্স উপভোগ করি
ছোট্ট একটা এক্সাম্পল দেই:
কিছুদিন আগেই বাসে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া যাচ্ছি
পাশের বসা লোকটি ঠিক আগের স্টপেজে নেমে যান
আমার স্টপেজ আসতেই গিয়ে দেখি
মাথার উপরে রাখা বেকপেকটি গায়েব
বেগে ছিল ল্যাপটপ, লাইসেন্স, এটিএম কার্ডস আর এন্ড এন আই ডি
লক্ষ টাকার লেপটপ হারিয়ে যতটা না বিমূর্ষ
তার থেকে বেশি চিন্তিত ছিলাম কাগজ গুলো উঠাবো কি করে ভেবে
সবাই আবার বলাবলি করছে
দেশে বাটপার এর অভাব নাই, ওখানে রাখলেন কেন ভাই
তবে বিস্বাস ছিল যিনি নিয়েছেন ভুল করেই নিয়েছেন
কারণ আমার বেগ যেখানে ছিল সেখানে আরেকটি ব্যাগপেক দেখতে পাই
পরে বাসের কন্ডাক্টরকে নম্বর দিয়ে নেমে যাই
সোজা গিয়ে ঢুকি মসজিদে
সেজদায় আকুল হয়ে বলি
আল্লাহ একটা বেবস্থা করো!
আর সাথে সাথে পাই ইলহাম
“আগের স্টপেজে ফিরে যাও”
নামাজ শেষে ছুটি আগের স্টপেজ বিশ্বরোডের উদ্দেশ্যে
জায়গা খুব খারাপ,
কাজিনরা কিছুতেই একা ছাড়বে না,
তাই সাথে চলে দুই কাসিন,
সিএনজি আগায় ঝোড়ো গতিতে
অথচ ২০ মিনিটের জার্নি মনে হয় ২০ ঘন্টা
সাথে মাথায় চিন্তায় ঝড়
আর শয়তানের ওয়াসওয়াসা
“খামাখাই যাচ্ছিস,
সাথে আবার তোর কাজিনদের কষ্ট করে নিয়ে যাচ্ছিস,
বেটা ভন্ড,
বেক কর”
ঠিক যখন বিশ্বরোডের দ্বারপ্রান্তে,
তখন বাস কাউন্টার থেকে কল আসে
আপনার হারানো বেগটা পাওয়া গিয়েছে!
পৌঁছে গিয়ে দেখি
ভাইটি সুনামগঞ্জ থেকে আমার বাকপেক নিয়ে হাজির!
ভুলে নাকি এক্সচেঞ্জ হয়ে গিয়েছিলো!
জানান তিনিও নাকি ফিরে আসার এক অদ্ভুত আরজ ফিল করেন!
অর্থাৎ তিনিও ইলহাম রিসিভ করেন!
Share: