নাফ্স হচ্ছে একটা স্প্রিঙের মতন

আপনার যারা ভাবছিলেন রমজানে একদম সুফী হয়ে যাবেন
কিন্তু দেখা গেলো চাদ উঠতে না উঠতেই শয়তানি পুরোদমে শুরু
লিখাটা তাদের জন্য,
বিষয়টা একটু বুঝুন
নাফ্স হচ্ছে একটা স্প্রিঙের মতন
এক মাস কোনো রকমে এই স্পির্নিং কে একটা বাক্স আটকিয়ে রেখেছিলেন
তার মানে এই নয় যে তার গুণগত ম্যান নষ্ট হয়ে গিয়েছে
বাক্স খুলতেই সে লাফিয়ে উঠবে, এটাই তো স্বাভাবিক!
কিছু করার নেই, ফিত্রতেই আছে!
নাফ্সের এই নেচারের কারণেই কিন্তু দীন কে একটা রাস্তার সাথে তুলনা করা হয়েছে
অর্থাৎ রাস্তায় গাড়ি চললে কাদা লাগবেই
সব সময় শো রুম কন্ডিশনে থাকবে এমনটা নয়.
আপনাকে ওকে বার বার ধুতে হবে
পরিশুদ্ধ করতে হবে.
তাই এক মাস কন্ট্রোল করার পর এটা ভাবার কোনো অবকাশ নেই যে আপনি সারা জীবনের জন্য এখন সুফী বোনে গেলেন!
বরং উল্টোটি!
কারণ আপনি এখন শয়তানের টার্গেটে পরে গিয়েছেন
তার পূর্ণ এটেনশন এখন আপনার উপর নিয়োজিত!
তাই দরকার এক্সট্রা প্রটেকশন দরকার এক্সট্রা স্ট্রেটেজি.
অবাক হওয়ার কিছু নেই যদি ঈদের রাত্রিতেই অথবা তার পরে রাত্রিতে আপনার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে গেলো!
ভুল হতেই পারে, এমনকি ভুল হয়েও গিয়েছে
এখন আপনি কি করবেন?
ইবাদত বন্দেগী বাদ দিয়ে হতাশ হয়ে মুখ লুকিয়ে রাখবেন?
নাকি গিল্টের চোটে নামাজ কালামই ছেড়ে দিবেন?
কক্ষনো না, বরং উল্টোটা
ভাই, বুঝেন, আমরা হলাম ইনসান,
আর এই ইনসান শব্দটি এসেছে না-সি-আ বা নুন-সিন্ই-য়া থেকে
যার অর্থই হলো “ভুলে যাওয়া”
অর্থাৎ ভুলে যাওয়াটাই আমাদের ফিত্রতে
তবে আসল পয়েন্ট হলো
এই ভুলে যাওয়ার পর আপনার আমার এটিচুড কি হবে
আমরা কি হতাশ হয়ে দ্বীন থেকে বিমুখ হয়ে যাবো নাকি অনুতপ্ত হয়ে দ্বীনকে আরো জোরালো ভাবে ধরে বসবো!
আপনার রব আপনার কাছ থেকে দ্বিতীয় এটিচুডটাই আশা করেন
তিনি ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে একটা কোথাই বার বার জানান দেন
“তাঁর দয়া তার ক্রোধ থেকে অনেক অনেক বড়!”
বার বার বলার চেষ্টা করেন,
“হে আমার বান্দারা তোমরা যারা গুনাহ করতে করতে শেষ হয়ে গিয়েছে, হতাশ হয়ে যেও না, নিশ্চই আমি ক্ষমাশীল, নিশ্চই আমি সমস্ত গুনাহ গুলো মাফ করতে সক্ষম!”
তবে শর্ত একটাই
সাথে সাথে ক্ষমা চেয়ে চেয়ে নিতে হবে!
জাস্ট বলার জন্য বলা নয়
জেনুইনলি ক্ষমা চান,
এমন ভাবে চান যেন আপনি তা মিন করেছেন!
তারপর?
নিজের সাথে আর রবের সাথে একটা স্ট্রং প্রমিস করুন, যে:
“আমি ফিরে আসলাম, আর ফিরে যাচ্ছি না!”
তবে বলে রাখা দরকার
এই ফিরে আসার পরেও কি আবার ভুল হওয়ার চান্স থাকবে না?
অবশই থাকবে!
তখন নিজেকে প্রটেক্ট করার জন্য একটা স্ট্রেটেজি দাঁড় করতে হবে
যেমনটা রাসূলুল্লাহ শিখিয়েছেন
তিনি একটা ফল্লওয়াপ স্ট্রেটেজিও প্রেস্ক্রাইব করেছেন
আর তাহলো, এই মাসে আরো এক্সট্রা ৬টি রোজা রাখা।
পসিবল হলে, এই ৬টি রোজা রাখার নিয়ত করে ফেলুন।
আমার এডভাইস,
পরপর রাখতে যাবেন না
সেটা ইসি তবে এফেক্টিভ হবে না!
একটা রাখেন, তারপর নাফ্স কে অবসার্ভ করেন,
যদি দেখেন ডানে বায়ে যাচ্ছে
পরদিন আরেকটা রাখেন
এভাবে এই মাসের মদ্ধেই ৬ টা রাখার চেষ্টা করেন
আর পেটার্নটা আইডেন্টিফাই করেন
করতে পারলে নাফ্সের কন্ট্রোলের বাইরেও আছে আরেকটা বিশাল রিওয়ার্ড
আর সেটা হলো
“সারা বছর রোজার রাখার” রিওয়ার্ড!
জি
“সারা বছর রোজার রাখার” রিওয়ার্ড!
আর সওয়াল মাস শেষ হলেও
আপনার এই এক্সট্রা রোজা রাখার প্রেক্টিসটি কন্টিনিউ রাখুন
কারণ এটাও রাসূলের সুন্নাহ ও এডভাইস
পসিবল হলে উইকলি রাখুন, না পারলে বাই উইকলি রাখুন
আর যদি দাউদ আ এর মতো এভরি অল্টারনেটইভ দিনে রাখতে পারেন তাহলে তো কথাই নাই!
Share: