জীবনের উদেশ্য খুঁজে বেড়াই পার্ট ৬
ইদানিং তাঁর সাথে প্রতিদিনই গোপনে গোপনে কথা হচ্ছে
একবার না, তাও আবার একাধিকবার
কিছু আমি বলি, কিছু তিনি বলেন, আবার কথা না শুনলে মৃদু ধমকও দেন!
আমাদের গোপন কথোপোকথন এর ছোট্ট নমুনা:
আমি: সমগ্র পৃথিবীর সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্য
উত্তরে তিনি বলেন: আমার সেবক আমার প্রশংসা করছে!
বলি: তুমি মেহেরবান পরম দয়ালু
তিনি উত্তর দেন : আমার সেবক আমার গুণগান করছে!
বলি: বিচার দিবসের মালিক ও তুমিই
তখন তিনি বলেন: আমার সেবক আমার মর্যাদা বর্ণনা করছে!
তারপর যখন বলি: আমিতো একমাত্র তোমার সেবাই করি আর একমাত্র তোমার কাছেই সাহায্য চাই
তখন তিনি বলে ফেলেন: এ হচ্ছে আমার ও আমার সেবকের মাঝে কথা বার্তা। সে এখন যা চাবে তাই পাবে।”
প্রতিদিন প্রতি ওয়াক্তে প্রতি রাকাতে আপনি মনোযোগ দিয়ে ফাতিহা পড়লে তিনি এমন ভাবেই সারা দিয়ে থাকেন! [১]
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় বেতি বেস্ত হয়ে আমরা প্রায় ভুলতেই বসেছি যে তিনি আমাদের কাছেই আছেন [২] এবং প্রতিটি কথাই শুনছেন [২], ভুলতে বসেছি যে তাঁরও আবেগ আছে, তিনিও প্রশংসা করলে খুশি হন
স্রষ্টার সব কিছুই অপিরিসীম, তার দয়াও বেশি, তার খুশিও বেশি
প্রশংসা করলে যেমন আমাদের ভালো লাগে, তারও ভালো লাগে, বরং একটু বেশিই ভালো লাগে!
তবে এর মানে এই নয় যে তিনি আমাদের প্রশংসার জন্য কাঙাল হয়ে আছেন , অথবা গ্রিক কল্পকাহিনীর মতো আমাদের প্রশংসার উপর নির্র্ভরশীল, কারণ তিনি নিজেই নিজ গুনে প্রশংসিত [৩]
নিজেই গর্ব করে বলেন, সমুদ্র পরিমান পানি যদি কালি হয়ে জেত আর তা দিয়ে তার প্রশংসার কথা লিখা হত তাতেও তা কম পরে যেত [৪][৫]
আবার বলেন, তাঁর মহিমা অসীম, আমরা সবাই মিলে তাতে যেমন বিন্দু মাত্র যোগ করতে পারব না তেমনি বিন্দুমাত্র বিয়োজনও করতে পারব না [৬]
তারপরেও আমরা তার প্রশংসা করবো কারণ
আমাদের কে আদেশ করা হয়েছে তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা করার জন্য, তাঁকে শ্রদ্ধ করা জন্য, তাঁকে বার বার মনে করার জন্য, ডাকার জন্য, তার গুন্ ও ভালোবাসার কথা অন্যকে জানানোর জন্য এবং তাঁর বিষয়ে নিবিড় ভাবে চিন্তা করার জন্য
তার প্রশংসা করবো কারণ এতে আমাদেরই লাভ লুকায়িত আছে [৭] এতে মিলবে তুষ্টি আসবে প্রশান্তি
তার এই বড়ত্ব ঘোষণার অন্যতম মাধ্যম হলো ইবাদাহ
খেয়াল আছে? বলেছিলাম, জীবনের উদ্দেশ একটাই, আর তা হোলো ইবাদাহ [৮]
প্রশ্ন আসে না এই ইবাদাহ বিষয়টি কি?
ইবাদাহ শব্দটি এসেছে আব্দ থেকে যার অর্থ সেবক, অর্থ্যাৎ একজন সেবকের সেবা করাটাই হলো ইবাদাহ, এবং তা শুধু একটা দুটো রুটিন মাফিক কাজেই সীমাবদ্ব নয়.
ইবাদাহর অনেক বিন্যাস আছে, নামাজের মিষ্টি কথোপকথন যেমন ইবাদাহ তেমনি তার কাছে বেকুল হয়ে চাওটাও ইবাদাহ।
যাকাত যেমন ইবাদাহ তেমনি সাদাকাও ইবাদাহ।
সাদাকার কোথাই যদি ধরি, তা শুধু ৫ বা ১০ টাকা খয়রাতিতে সীমিত নয়,
বলা হয়েছে যে
প্রতিটি ভালো কাজ হলো সাদাকা অর্থাৎ প্রতিটি ভালো কাজ হলো ইবাদাহ [৯]
প্রতিটি সঠিক কাজ হলো সাদাকা অর্থাৎ প্রতিটি সঠিক কাজ হলো ইবাদাহ [১০]
তাই একই সূত্রে বলা যায়
প্রতিটি ভালো কোথা ইবাদাহ [১১] প্রতিটি কাইন্ড এক্ট হলো ইবাদাহ [১২] প্রতিটি ভালো উপদেশ হলো ইবাদাহ এবং প্রতিটি খারাপ কাজে নিষেদ করাটাও হলো ইবাদাহ [১৩] এমনকি কাউকে কে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাওয়াটাও ইবাদাহ [১১]
যেমন
কাউকে পানি পান করানো ইবাদাহ [ ১১] রাস্তা থেকে কাটা সড়ানোটা ইবাদাহ [১১] কাউকে পথ দেখিয়ে দেয়াটা ইবাদাহ [১৪] দুজনের মদ্ধে বিবাদে সঠিক ফয়সালা করে দেয়াটা ইবাদাহ [১৫] কাউকে বাহনে চড়তে সাহায্য করা ইবাদাহ আবার তার মাল উঠানোতে সাহায্য করাটাও ইবাদাহ [১৫]
এবং জেনে অবাক হবেন,
কাউকে দেখে এক চিলতে হাসি দেয়াটাও ইবাদাহ [১৭]
তাই বলছি,
ইবাদাহ কি শুধুই নামাজ বা রোজাতেই সীমাবদ্ব?
না
ইবাদাহ হলো ভালোত্ব প্রকাশের এক আলট্রা ওয়াইড স্পেকট্রাম!
রেফারেন্স:
[১] সহি মুসলিম: ৩৯৫ [২] আল কোরান ২:১৮৬ [৩] আল কোরান ১:১ [৪] আল কোরান ৩১:২৭ [৫] আল কোরান ১৮:১০৯ [৬] সহি মুসলিম ২৫৭৭এ [৭] আল কোরান ১৭:৭ [৮] আল কোরান ৫১:৫৬ [৯] সুনান যাবি দাউদ ৪৯৪৭ [১০] আল আদাব আল মুফরাদ ২২৪ [১১] আল আদাব আল মুফরাদ ৪২২ [১২] আল আদাব আল মুফরাদ ২৩১ [১৩] সহি মুসলিম ১০০৬ [১৪] আল আদাব আল মুফরাদ ৮৯১ [১৫] সহি মুসলিম ১০০৯ [১৬] আল আদাব আল মুফরাদ ১৯৫ [১৭] তিরমিযী ১৯৫৬
Leave a Comment