কিছু আনকমফোর্টেবল কথা!

কিছু আনকমফোর্টেবল কথা:
আমরা যারা ৮০ বা ৯০এর দশক পেরিয়েছি
তাদের কাছে ছোটবেলার কিছু কিছু শো এখনো অম্লান,
যেমন
ম্যাকগাইভার বা হারকিউলিস
সিন্দবাদ বা আলিফ লায়লার সেই নেইল বাইটিং শো গুলো
সবই ছিল আমাদের জন্য ম্যাজিকাল
মনে পরে হাসি পায়,
কোনো এক অজ্ঞাত কারণে
এক রাতে আমাকে ম্যাকগাইভার দেখতে দেয়া হলো না
বালিশে মাথা গুঁজে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে সেই কি মায়া কান্না!
কিছু দিন আগে পুরানো সেই ম্যাকগাইভারের সিরিজটি নামালাম
একটা দুটো এপিসোড দেখার পর মনে হলো
ছি:!
এই এমেচার সিরিজ এর জন্য একদিন এতো কান্না করেছিলাম !
এক সময় স্টাম্প জমাতাম,
কয়েন কালেক্ট করতাম
আজ জানি না,
কোন ময়লার স্তুপে তা পরে আছে
একটু বড় হয়ে অরিজিনাল কেসেট কালেকশনের ভূত মাথায় চড়লো
৫ বছর পর সেটা হলো অরিজিনাল সিডি কালেকশনের ভূত আর
তারও তিন বছর পর সেটা হলো অরিজিনাল ডিভিডি কালেকশনের মোহ
টিউশনির কষ্টের টাকা গুলো ওখানেই ঢেলেছিলাম!
সেগুলোও যে এখন কই, কে জানে?
বাস্তবতা এটাই।
আমার বিশ্বাস
আমরা সবাই এমন কিছু না কিছু বিষয় নিয়ে অবসেসড ছিলাম এবং এখনো আছি
সময়ের স্রোতে হয়তো সেই অবসেশন গুলো ভিন্ন রূপ পেয়েছে
যেমন
পরবর্তীতে অবসেশন হলো
ফেশনে, কখনো সামাজিক স্টাটাসে,
কখনো নিত্য নতুন ফুড টেস্টিংয়ে আবার কখনো গ্যাজেট একুইসিসনে
কখনো ঘুরাঘুরিতে আবার কখনো নেটফ্লিক্স নেক্সট সিরিজে
মানে, সময় কিল করার জন্য যেন এক নিরলস পায়তারা!
ভুল বুঝবেন না,
উপরুক্ত কাজ গুলো দোষের কিছু না
দোষ হলো যখন আপনি এই বিষয়গুলো নিয়ে অবসেস্ড হয়ে থাকেন
কিছুটা তো ব্যালেন্স থাকা চাই, তাই না?
আর এই কথাটাই বলতে গেলে
মানুষ বলে উঠে
ব্রো: এতো সিরিয়াস কেন, চিল!
জি ব্রো,
চিলই আছি
শুধু রিকোয়েস্ট
একদিন ঠান্ডা মাথায় একটু ভাবুন
এটাই কি লাইফ?
আর কি কোনো অব্জেক্টিবভি নেই?
হতে পারে না!
লাইফে একটা ভিশন থাকা চাই
“এমন একটা ভীষণ যেটা শুধু নিজের জন্য নয় হবে অন্যের জন্য,
এমন একটা ভীষণ যা অন্যের উপকার হবে!”
দেখবেন m ছুটাছুটিতে তৃপ্তিতা এসেছে
এই ভীষণ থাকাটা জরুরি
না থাকলে টেম্পোরারি সুখের পিছেই ছুটতে থাকবেন
একটা পর্যায়ে গিয়ে খেয়াল হবে,
সময় তো শেষ!
সো থিঙ্ক
কিসের পিছে ছুটছেন?
সেটাকি আপনার ভিশনের সাথে এলাইনড?
যদি হয়, গুড
যদি না হয়
তাহলে এলাইনড আছে এমন কিছুতে অবসেসড হন
আসবে পূর্ণতা, আসবে স্বস্তি।
আমাদের যিনি বানিয়েছেন,
তিনি লাইফের এই বিভিন্ন স্টেজের অবশেষণ গুলো চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন,
জানিয়েছেন সূরা হাদীদের ২০ নং আয়াতে
“জেনে রাখ,
তোমাদের দুনিয়ার জীবনটা যেভাবে
প্রথমে হাসি তামাশা ,
তারপর শোভা-সৌন্দর্য,
তারপর তোমাদের পারস্পরিক গর্ব-অহঙ্কার এবং
তারপর ধন-সম্পদ ও
সর্ব শেষে সন্তান-সন্ততি অর্জনে লিপ্ত আছো,
এর উপমা হল ঐ বৃষ্টির মত,
যার উৎপন্ন ফসল কৃষকদেরকে আনন্দ দেয়,
তারপর তা শুকিয়ে যায়,
তারপর তা হলুদ হয়ে যায়,
তারপর তা খড়-কুটায় পরিণত হয়।
অর্থাৎ টেম্পোরারি
(আর যদি মনে করো এটাই শেষ, আর কিছু নেই, তাহলে যেন রাখো )
দুনিয়ার জীবনটা তো ধোকা ছাড়া আর কিছুই নয়।
আসল লাইফ হলো আখিরাত বা এর পরের লাইফটি
সেখানে
আছে শাস্তি
আছে ক্ষমা
আছে সন্তুষ্টি”
জানি,
আগেই বলেছি কথাগুলো আনকমফোর্টেবল
এই আনকমফোর্টেবল কথা গুলো সাধারণত বলি না
তবে আজ বলতে ইচ্ছে হলো
হয়তো নিজেকে মনে করিয়ে দেয়ার জন্যই বলা!
Share: