আমাদের সিফত হলো দাসের সিফত
পড়তে যাবেন বাগদাদে
মা তাই বিদায় বেলা কয়টা গোল্ড কয়েন জামার ভিতর সেলাই করতে করতে উপদেশ দিলেন
“কক্ষনো মিথ্যে বলবে না কিন্তু বাবা”
কথা রেখেছিলেন মার,
ডাকাত সরদার যখন জিজ্ঞেস করলেন
“সাথে কিছু আছেরে বাছা?”
বলে দিলেন সত্য কথা
জি হা! জামার ভিতর কিছু গোল্ড কয়েন লুকানো আছে
বাচ্চা ছেলের সততা আর সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে ডাকাত সর্দার অনুতপ্ত,
চোখ দিয়ে অঝোরে পানি ফেলতে ফেলতে ফিরে এলেন !
গল্পটি ছোট বেলায় পাঠ্যপুস্তকে পড়েছিলাম
জানি না এখনো এটা পোড়ানো হয় কিনা
গল্পের নায়ক
জিলান শহরের বিখ্যাত আলেম মাওলানা আব্দুল কাদের জিলানী
যার প্রজ্ঞা আর জ্ঞান দুনিয়ায় আলো ছড়িয়েছিলো
তার কিংবদন্তি নিয়ে অসংক্ষ গল্প আছে
তেমনি এক প্রিয় গল্প হলো এমন
একদা তার এক শিষ্য বিদায় বেলায় তাঁকে বললেন
“হুজুর, যাওয়ার বেলায় আমাকে কিছু উপদেশ দিন যা আমি মেনে চলতে পারি”
বললেন
দুটো জিনিস কখনো করবে না,
কখনো নিজেকে খোদা দাবি করবে না আর
কখনো নিজেকে নবী দাবি করবে না
শিষ্য বেশ মনকষ্ট পেলেন,
বললেন
“হুজুর কি আমার বিষয়ে এমন ধারণাই পোষণ করেন?”
বললেন,
নিজেকে খোদা দাবি করার অর্থ হলো
সব কিছুই তোমার মন মতোই হতে হবে এমনটা সব সময় আকাঙ্খা করা,
এটা আল্লাহর সিফত, তাঁর মন যা চান তিনি তাই ঘটান
আর নিজেকে নবী দাবি করার অর্থ হলো
এটা দাবি করা যে, তুমি যা বলছো সেটাই সঠিক, বাকি সব ভুল,
কারণ এটা নবীদের সিফত!
ভাবতেই অবাক লাগে
দুটো দাবিই আমরা হর হামেশা বাসায় বা অফিসে করে থাকি,
সময়ে সময়ে হুঙ্কার দিয়ে বলে উঠি!
“এটা কেন এমন হলো!
বলেছি বাস, এটা এভাবেই করতে হবে!
তোমরা বেশি জানো, না আমি!
আমার কথার উপর কোনো কথা হবে না!
বাস!
অথচ ভুলে যাই আমাদের সিফত হলো দাসের সিফত
সেখানে অহংকার অহমিকাটা বড্ডো বেমানান…

Leave a Comment