তিনি আমাদের এগেইনস্ট না, পক্ষেই কাজ করে যাচ্ছেন

একটা মজার গল্প
বাণী ইসরাইলীদের একবার বেশ পানির সমস্যা দেখা দিলো
লোকেরা এসে মুসা আ: এর কাছে বৃষ্টির জন্য দুয়ার রিকুয়েস্ট করলো,
তিনি সবাইকে নিয়ে ময়দানে নামাজে দাঁড়ালেন
“রোদের তীব্রতা যেন আরো বেড়ে গেলো!”
মুসা বললেন
ইয়া আল্লাহ! দুআ করলাম বৃষ্টির, তুমি দেখি উল্টা করলা!
বললেন
“তোমাদের এখানে এমন একজন আছে, যে ৪০ বছর ধরে আমার নাফরমানি করে আসতেসে , ও যতক্ষণ আছে, আমি বৃষ্টি দিচ্ছি না!
মুসা ঘোষণা দিলেন
ভাই সব, কে এমন আছো ভাই? প্লিস বের হয়ে যাও, নাহলে তো বৃষ্টি হচ্ছে না, সবাই কষ্ট পাচ্ছি!
যার বুঝার সে বুঝে গিয়েছে!
একবার ডানে দেখে, একবার বায়ে দেখে, দেখে কেউ চিনলো কিনা!
ভিতর ভিতর পেরেশান হয়ে উঠে!
ভাবে,
“আজ যদি বের হই, সবার সামনে এক্সপোসড, আর যদি না বের হই তাহলে সবার কষ্ট, কি করি? কি করি? “
কাঁদো কাঁদো মনে বলে উঠে
“হে আল্লাহ! এই নাফরমানকে তুমি ৪০ বছর ধরে বেইজ্জতের হাত থেকে বাঁচিয়ে এসেছো, আজ তওবা করলাম, প্লিস আজকে আমাকে বাঁচায় দাও আল্লাহ!
সাথে সাথে বৃষ্টি স্টার্ট!
মুসা তো অবাক! বলে,
“আরে আল্লাহ, আমি তো কাউকে বের হতে দেখলাম না? বৃষ্টি কেমনে স্টার্ট হলো?”
বললেন..
“যার জন্য এতক্ষন বৃষ্টি আটকিয়ে রেখেছিলাম, তাঁর জন্যই ছেড়ে দিলাম”
কি ভাবে!
সে তওবা করলো আর আমিও খুশি হয়ে গেলাম!
“বাহ্! কে সেই সৌভাগ্যবান? আমি কি তাকে একটু দেখতে পারি?”
বললেন
“৪০ বছরের ধরে নাফরমানি করার পরেও তাকে আমি সেভ করে আসছি আর আজ সে যখন আমার সাতে তওবা করলো তাকে আমি এক্সপোস করে দিব?”
গল্পটা আশা জাগায়,
রাতের পর রাত, কতই না নাফরমানি করেছি!
ভয় হয়, ফিরে আসার দরজা না বন্ধ হয়ে গেলো!
ভয় হয়, না বুঝি কোন বিপদ না এসে গেলো!
কেন জানি তাঁর বিষয়ে একটা রং মেন্টাল মডেল আমরা এডাপ্ট করে নিয়েছি-
“তিনি রাগী, প্রতিশোধপরায়ণ, সুজুগ পেলেই এক হাত দেখে নিবে!”
অথচ জানতেই পারলাম না যে,
তিনি কতটা বেণুভুলেন্ট!
কতটা হিতৈষী!
জেনে ভালো লাগলো যে,
“তিনি আমাদের এগেইনস্ট না, ফর এই কাজ করে যাচ্ছেন!
রেফারেন্স:
গল্পটি ইবনে কুদামাহ তার কিতাব আত তাওবাবিনে লিপিবদ্ধ করেছেন, তবে আমি মাওলানা তারেক জামিল থেকে প্রথম জানতে পারি…
Share: