হজ্জ্ব ডায়রি পার্ট ৬

বাইতুল্লাহ আসলে দেখা যায় পৃথিবর কত বর্ণের কত স্পেকট্রামের মানুষ এখানে আসে!
মজার বিষয় হলো,
এই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়েও আপনি দেখে বলে দিতে পারবেন যে কে কোনো রিজিওন থেকে এসেছেন
যেমন
কাবলি পরিহিত মানেই পাকিস্তানী
আবার কাবলির সাথে মাথায় পাগড়ি থাকলে, আফগানী
অন্যদিকে,
হলুদ কমলা রঙের কেটকেটা আলখেল্লা মানে দৈত্যাটিক আফ্রিকান!
সাদা কলার ওলা জুব্বা হলে সৌদির
আবার সাদা গোল গলার জুব্বা হলে দুবাইআন
আর এদিকে লুঙ্গির সাথে পাঞ্জাবি মানেই বাঙালি
কিন্তু আবার লুঙ্গির সাথে গেঞ্জি আর কেডস মানে মালে
আবার পায়জামা পাঞ্জাবি মানে বাঙালি
কিন্তু , পায়জামার সাথে আবার ফতুয়া পরলে ইন্দোনেশিয়ান
ধরা যায় না শুধু একটা সময়,
যখন আমরা সবাই এহরামে থাকি!
স্বাভিক ভাবেই কথা আসে
এগুলো সবই রিজিওনাল ড্রেস
তাহলে ইসলামিক ড্রেস কোনটি?
রাসূলুল্লাহ যে ধরণের ড্রেস পড়তেন নিশ্চই সেটি,
কিন্তু গত রমজানে যখন টার্কিশ মিউজিয়ামে রাসুল্লুল্লার ড্রেস প্রদর্শন হয়
ভেবেছিলাম পায়জামা পাঞ্জাবি কিংবা জুব্বা টাইপের কিছু হবে,
ওমা! দেখি নরমাল একটা ক্লক!
ইতিহাসের পাতা ঘেটে জানা যায়
কেউ যদি উনার মজলিশে আসতেন
উনার ড্রেস দেখে কখনই বুঝতো না যে রাসূলুল্লাহ কোনটি,
অর্থাৎ উনার কোনো স্পেশাল ড্রেস কোড ছিল না,
এসে জিজ্ঞেস করতে হতো,
ভাই রাসূল কোনটা?
হা, সিল্ক পরা, ট্রান্সপারেন্ট কাপড় পরা, মেয়েদের কাপড় পরা, স্কিন টাইট কাপড় পড়া কিংবা ভিন্ন ধর্মের রিপ্রেসেন্ট করে এমন কাপড় পড়া যাবে না
এমনটা রাসূল স্পেসিফিক্যালি বলেছেন সো সেটা মানতেই হবে
আর আমার স্রষ্টা তো আরো সুন্দর করে বলেছেন
“হে আদাম সন্তান!
আমি তোমাদেরকে লিবাস দিয়েছি তোমাদের লজ্জাস্থান আবৃত করার জন্য এবং শোভা বর্ধনের জন্য। তবে আর আমি সর্বদা তোমায় দেখছি এই বিষয়ে সর্বদা মাইন্ডফুল থাকা হচ্ছে সর্বোত্তম লিবাস
[সূরা আরাফ আয়াত ২৬]
এই যদি হয়ে থাকে
তাহলে আমরা কেন একটা পার্টিকুলার ড্রেস কোড নিয়ে এতো মাতামাতি করি?
বলছি কারণ আমাকে প্রায়িই সাজেশন পেতে হয়
“তুই ইসলামিক লিবাস টা ধর,
অনেক গ্রহণযোগ্যতা পাবি !”
আমিও সরল মনে উত্তর দেই
ইসলামিক লিবাসটা! সে আবার কি?
একটু বুঝায়া বল!
Share: