ছোট শির্ক!
মসজিদের সামনে বাইক রাখলাম
কোনো এক কারণে সিকিউরিটি আজ কিঞ্চিৎ রুড ব্যবহার করলেন
এইডা কি করলেন! এইডা কি রাখনের জায়গা হইলো!
সাধারণত গার্ড গুলো এমনটা করে না
১০ ২০ টাকা বকশিশের জন্য উল্টো সালাম দিয়ে জায়গা করে দেয়
আজ কি হলো কে জানে
ইজ্জতের মালিক তিনি, বেইজ্জতের মালিকও তিনি
হয়তো আমারি কোনো ভুলের কারণে তিনি এই ছোট্ট ওয়ার্নিং টি দিয়ে ছেড়ে দিলেন
তাই সাথে সাথে এস্তেগফার করে নিলাম
কিছুটা দূরে বাইক পার্ক করে চিবিয়ে বললাম
তোমার কপালে কি আর আজ বকশিশ আছেরে মোনা!
গার্ডের সামনেই ছিল এক ফকির
পকেট থেকে কিছু টাকা বের করে গার্ডের দিকে তাকিয়ে ফকিরটাকে দিলাম
গার্ডটা আহত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো
একটি সুক্ষ আনন্দ অনুভব করলাম
আর তখনি বিষয়টা আঘাত আনলো
যা করলাম ঠিক করলাম?
যে ভাবে দিলাম ঠিক দিলাম?
একদমই না!
বেশ কয়েকটা লেয়ারে ফল্ট হলো
প্রথম ফল্ট ইনটেনশনে
দ্বিতীয় ফল্ট শো অফে
দানটা আমি না করলাম আল্লাহকে খুশি করার জন্য
না করলাম গরিবকে মায়া দেখানোর জন্য
করলাম ওই গার্ডের মনে জ্বালা উঠানোর জন্য!
বুখারী শরীফের প্রথম হাদিস মনে পড়লো
“ইন্নামাল আমালু বিন নিয়াহ”
প্রতিটি আমল নির্ভর করবে আমাদের ইন্টেনশনের উপর
আর শো অফ?
সেটাতো আরো ভয়ঙ্কর!
এক আসরে রাসূলুল্লাহ বলে উঠলেন
আমি জানি তোমরা বড় শিরক করবে না ,
তবে তোমাদের ছোট ছোট শির্ক নিয়েই আমি বেশি চিন্তিত!
ইয়া রাসুল্লুল্লাহ,
ছোট ছোট শিরক আবার কোন গুলো?
সেটা হলো লোক দেখানো আমল গুলো!
অর্থাৎ শো অফ!
ইনটেনশন এবং শো অফের একটা কম্বিনেশন হাদিস আছে!
বলা হয়েছে,
হাশরের দিনে আল্লাহ প্রথম যেই তিন বেক্তিকে ডাকবেন
তারা হলেন একজন শহীদ, একজন আলেম এবং একজন দাতা
প্রথমে শহীদ,
তাকে জিজ্ঞেস করা হবে
তুমি আমার জন্য কি আমল করে ছিলে?
আমি আপনার জন্য জিহাদ করেছিলাম,
এমনকি নিজের জান পর্যন্ত বিলিয়ে দিয়েছিলাম
মিথ্যে কথা,
তুমি তো তা করেছিলে সো ডেট মানুষ তোমাকে বীর বলে সম্মোধন করে!
দ্বিতীয় বেক্তি, আলেম,
তাকে জিজ্ঞেস করা হবে
তুমি আমার জন্য কি করে ছিলে?
আমি আপনার জন্য কোরান পড়তাম ও মানুষকে পড়াতাম
মিথ্যে কথা,
তুমি তা করতে সো ডেট মানুষ তোমাকে আলেম বলে সম্মোধন করে!
তৃতীয় বেক্তি, দানবীর,
তাকে জিজ্ঞেস করা হবে
তুমি আমার জন্য কি করে ছিলে?
আমি আপনার জন্য অগুনিতভাবে দান করতাম
মিথ্যে কথা,
তুমি তো করতে সো ডেট মানুষ তোমাকে দানবীর বলে সম্মোধন করে!
এবং অতঃপর তাদের আমল বরবাদ করা হবে.
ইনটেনশন ইস এভরিথিং
প্রতিদিনই তো আমরা এরকম অজস্র ছোট খাটো ভুল করে থাকি
তবে আমাদের স্রষ্টা ব্রিলিয়ান্ট
প্রতিটি ভুল থেকেও তিনি ভালো কিছু বের করতে সক্ষম
হয়তো তিনি আমার সেই ভুল থেকেও ভালো কিছু বের করতে চেয়েছেন
তাই ইলহাম দিলেন এই লিখাটার
কাঁপা কাঁপা হাতে তাই লিখা
একদিকে ভয়,
না জানালে হয়তো একদন জিজ্ঞেস করে বসবেন
আপনাদের কেনো জানালাম না!
আবার আরেক দিকে ভয়,
লিখাটি যেন লাইক বা শেয়ারের ইন্টেনশনে না লিখা হয়ে যায়!
কি একটা জ্বালা!

Leave a Comment