স্রষ্টা মোর রাগি না অনুরাগী?

বেশ কিছুদিন ধরেই আরবি ভাষা নিয়ে কাজ করছি

ভাষা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে শিখলাম

প্রাগ ঐতিহাসিক আরবে আরবি ভাষায়, ভালোবাসাকে ১০টি শব্দে ভাগ করেছিলেন

একেকটি শব্দের ইনটেনসিটি লেভেল একেক রকম

সব থেকে নিচু লেভেলে ছিল ‘হাব’ যার অর্থ শুধু ভালোলাগা

আর সব থেকে তীব্রতম লেভেলটি হলো দশম লেভেল, একটি অনস্টেবলে এবং সুইসাইডাল লেভেল

এই লেভেলে আপনি কাউকে এতোটা ভালোবেসে ফেলেছেন যে আপনার সব কিছু লাটে উঠেছে,

আপনার আর বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করছে না

এ ধরণের ভালোবাসা ক্ষতিকর এবং ভয়ঙ্কর

এই ক্ষতিকর লেভেলের ঠিক পূর্বের লেভেলটি হলো লেভেল ৯, যা একটা ম্যাজিক্যাল লেভেল

এই লেভেলটি এমন এক উদ্ভূত ভালোবাসার লেভেল

যে ভালোবাসায় কোনো কষ্ট নেই, কোন দুঃখ নেই

আপনার কোনো খিদা লাগবে না আবার কোনো কিছুতে ঘৃণাও হবে না

মানে, আপনি এতটাই তৃপ্ত, এতটাই ফুল যে অন্য কোনো ইমোশনের জায়গাই নেই

লেভেলটির নাম হচ্ছে ওয়ালাহ

এবং অবাক বিষয় হচ্ছে এই ওয়ালাহ শব্দ থেকেই ইলাহ শব্দের উৎপত্তি, যা থেকে আল্লাহ শব্দের গঠন

অর্থাৎ

তিনি সেই এমন এক সত্তা যার অর্থই হচ্ছে ভালোবাসা

তিনি এমন এক সত্তা যার কাছে আমাদের ভালোবাসার টানে ছুতে যাওয়ার কথা ছিল

অথচ

বাস্তব চিত্র ভিন্ন, ১৮০ ডিগ্রী উল্টো

আমরা দিন দিন সেই ইলাহ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় মত্ত

কারণ একটাই,

ভয়

আমরা খুব সিস্টেমেটিকালি এই ইলাহের ব্র্যান্ড ইমেজের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছি

ছোটবেলা থেকে আমাদের একটা মেন্ডেল মডেল ডেভেলপেড হয়ে গিয়েছে

আমাদের ডিফল্ট পসিশন এখন

আমাদের ইলাহ বদমেজাজি এবং আমরা মোটামোটি সবাই জাহান্নামী

মদ্য কথা

আল্লাহ ভীতিকর, তাকে ভয় করো

তো কি করে এই ১৮০ ডিগ্রী উল্টো মেন্টাল মডেল গঠন হলো?

“আল্লাহ ভীতিকর, তাকে ভয় করো” – এই ইনফরমেশনটি বার বার আমাদের মগজে ঢুকিয়ে দেয়া হচ্ছে

জুম্মা বলেন, তাফসীরের পাতায় বলেন অথবা ডাইরেক্ট অনুবাদ গুলোতে বলেন সবখানেই লিখা

আল্লাহ ভীতিকর, তাকে ভয় করো

আস্তে আস্তে এই ইমেজটা আমাদের মস্তিষ্কে ইমপ্রিন্ট হয়ে গিয়েছে

অথচ অবাক হবেন জেনে যে এবং এটা হয়েছে সামান্য একটি শব্দের ভুল ট্রান্সলেশনের কারণে

শব্দটি হচ্ছে তাকওয়া…..

কোরানে তাকওয়া শব্দিটি বিভিন্ন ফরম্যাটে ২৩২ বার এর ও বেশি বার এসেছে

যেমন

লা আল্লাকুম তাত্তাকুন [যেন তোমরা আল্লাহকে ভয় করো]

ওয়াত্তাকুল্লাহ [আল্লাহকে ভয় করো]

ফাত্তাকু [অতয়েব আল্লাহকে ভয় করো]

মুত্তাকিন [খোদা ভীরু হও]

জুম্মার খুৎবা বলেন অথবা যেকোনো ট্রান্সলেশন বলেন সবখানে ওই একই কথা,

ভয়! ভয়! ভয়!

আল্লাহ ভীতিকর, তাকে ভয় করো

অথচ ভাষা নিয়ে কাজ করতে গিয়ে শিখলাম

তাকওয়া শব্দের অর্থবোধক সংগা হলো “আওয়ারেনেস”

সহজ কোথায় চিন্তার ধুয়াজালে না ভেসে

অন্যমনস্ক না হয়ে

সর্ব অবস্থায় প্রেসেন্ট, আওয়ার আর মাইন্ডফুল থাকা হচ্ছে তাকওয়া

এখন লক্ষ করুন আমরা যদি এই ভয় শব্দটি সিম্পলি আওয়ারেনেস দ্বারা রিপ্লেসে করি তাহলে কি দাঁড়ায়

লা আল্লাকুম তাত্তাকুন [যাতে তোমরা আল্লাহর সম্পর্কে আওয়ার হতে পারো]

ওয়াত্তাকুল্লাহ [আল্লাহর সম্পর্কে আওয়ার হও]

ফাত্তাকুল্লাহ [অতয়েব আল্লাহর বিষয়ে আওয়ার হও]

মুত্তাকিন [যে সবসময় আওয়ার থাকে, সেরকম হও]

বুঝার পুরো ডাইমেনশনই চেঞ্জ হয়ে যায়….

ভয় এর জন্য কিন্তু কোরানে আলাদা আরেকটি একটা শব্দই আছে, তা হলো “খাউফ”

আমরা আমাদের সুবিধা আদায়ের জন্য কোরানের একটা ফ্রেকুয়েন্ট শব্দকে ভয় বানিয়ে ফেলেছি

তাই অবাক হওয়ার কিছুই নেই যে দিন দিন কেন আমরা ধর্ম থেকে দূরে সরে যাচ্ছি

কারণ মানুষের স্বভাবজাত স্বভাব হলো যা ভয়ঙ্কর তা এড়িয়ে চলো, যেমন সাপ অথবা বিচ্ছু

তাই যে মুহূর্তে আপনি স্ক্রিন থেকে ধর্মকে সরিয়ে দিবেন, সেই মুহূর্তে আপনি কিন্তু চিন্তা মুক্ত

“কি আর আছে জীবনে” মার্ক একটা ফিলোসফি এডপ্ট করবেন

কোনো দায়বদ্ধতা নেই অথবা বিচারদিবসের চিন্তা নেই

আর নেই বলেই কাউকে পিটিয়ে হত্যা করায় কিছু যায় আসে না

যায় আসে না দুর্নীতিতে এক নাম্বার হওয়াতে

অথবা যায় আসে না প্রতারণা, ধর্ষণ অথবা হত্যার মতো ঘৃণ্য অপরাধে

তবে আমি আশাবাদী

আস্তে আস্তে অনেকেই এই গোড়ামি থেকে বের হচ্ছে

দরকার একটা সঠিক ইনফমরাটিও ফ্লো

এবং যখন এই ইনফোমরাটিও চ্যানেল তা ঠিক করতে পারবো

আমরা ট্রান্সফার হতে পারবো

গড ফিয়ারিং জাতি থেকে গড লাভিং জাতিতে ….

Share: