মেন্টাল মডেল পার্ট ৮
এক দেশে এক সুফী ছিলেন,
নামাজ রোজা আর জিকিরেই সময় কাটাতেন
কোনো খারাপ চিন্তা নেই, কোনো খারাপ বাসনা নেই,
নিজের স্পিরিচুয়াল অগ্রগতিতে নিজেই খুশি।
এক রাত্রিতে স্বপ্ন দেখলেন,
“অত খুশি হয়না না বাছা, এলাকার ওই দোকানদার তোমার থেকে আদ্ধাতিকতায় এগিয়ে, যাও তার থেকে কিছু আধ্যাতিক জ্ঞান নিয়ে আসো”
সুফী সকালে উঠে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না
নিশ্চই কোনো ভুল হয়েছে
তারপরেও সকালে সেই দোকানদারকে খুঁজে বের করলেন
কাছে গিয়ে দেখলেন
বেটা তো দুনিয়াবি কাজেই বেস্ত,
কাস্টমার আসে আর যায়, তিনি সদাই দেন, আর বিক্রির টাকা ড্রয়ারে গুনে রাখেন
তার মদ্ধে কোনো আদ্ধাতিকতা খুঁজে পেলেন না
ভাবেন, মনে হয় স্বপ্নটা ভুলই ছিল
ভাবনায় ছেদ পরে যখন দোকানদার তাকে ডেকে বলেন
কি ভাই? কি চিন্তা করেন? কিছু নিবেন নাকি?
না না! আমি কিছু কিনতে আসি নি, শুধু আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে এসেছি
কি প্রশ্ন?
তিনি স্বপ্নটি ভেঙে বললেন
শুনে দোকানদার মুচকি হাসেন
এটাতো সহজ বেপার
তার আগে আপনাকে আমার জন্য একটা ছোট্ট কাজ করতে হবে!
নিশ্চই ! যেকোনো কাজ করতে প্রস্তুত!
দোকানদার তখন তাঁকে একটি ছিপি খোলা বোতল ধরে দিয়ে বললেন
“আধাঘণ্টার মধ্যে বোতলটা নিয়ে ওই রাস্তার শেষ মাথা যাবেন আর ফিরে আসবেন”
“আধা ঘন্টা!”
“সাবধান, ভিতরের তেল যেন একটুও না পরে যায়”
“পড়লে কিন্তু আপনাকে কিছু বলব না”
সুফী বোতল নিয়ে হাটা শুরু করলেন
আস্তে আস্তে হাঁটেন যাতে তেল না পরে যায়
আবার কিছুদূর এগিয়ে হাঁটার গতি বাড়িয়ে দেন পাছে ডেড লাইন না মিস হয়ে যায়
এদিকে আবার জোরে হাটতে গেলে তেল উগলে উঠে
কি এক যন্ত্রনা!
এই করতে করতে কোনো রকমে সুফী ফিরে আসেন
হাপাতে হাপাতে দোকানদারকে বলেন
এই ধরেন আপনার তেল, এখন দোয়া করে আমাকে স্বপ্নের বিষয়টি খুলে বলেন!
দোকানদার তখন এই পেরেশানি অবস্থায় সুফিকে দেখে মুচকি হেসে বললেন
“আচ্ছা বলেন তো, এই আধাঘন্টায় আপনি আল্লাহকে কয়বার স্মরণ করেছিলেন ?”
প্রশ্নটা শুনেই সুফী চমকে উঠেন
হয় আল্লাহ! তাই তো, এই পেরেশানিতে তো তার তো একবারো মনে পরেনি! বেমালুম ভুলেই গিয়েছিলাম!
জি ভাই, এখানেই পার্থক্য, আমি কিন্তু উনাকে কখন ভুলি না, তাঁর বিষয়ে বেখেয়ালও হই না!
তিনি আমায় দেখছেন এই খেয়ালটা সব সময়ই আমার মনে গেথে থাকে
সব সময় প্রেসেনসে থাকি, উদ্দেশ্যহীন চিন্তায় ডুবে থাকি না
যে কোনো দুনিয়াবী কর্ম কান্ড তার কথা আমার মন থেকে সরাতে পারে না!!!”
গল্পটা কলেজকালীন থাকতে এক তাবলীগে সময় লাগাতে গিয়ে পেয়েছিলাম,
পরবর্তীতে বিভিন্ন ব্লগ ও ইউটুবেও পেয়েছি
গল্পটা বাস্তবিক না কাল্পনিক সেটা আসল বিষয় নয়
আসল বিষয় হলো
গল্পটা আমাকে একটা গভীর বিষয় বুঝতে সাহায্য করেছিল
আর তা হলো তাকওয়া
“তিনি সব সময় আমায় দেখছেন এই মাইন্ডফুলনেসের নামই তো তাকওয়া”
স্রষ্টা চান আমরা যেন সব সময় এই তাকওয়ার স্টেটে থাকি
তবে তাকওয়া তো আর কোনো ডিস্পেন্সারিতে পাওয়া কোনো ওষুধ নয় যে
খাবার আগে খেলেন আর তা বেড়ে হয়ে গেলো
বিষয়টা প্রেক্টিসের বেপার এবং এই জন্য আল্লাহ রোজার আইডিয়া আমাদের কাছে ইন্ট্রোডিউস করেন এভাবে:
“তোমরা রোজা রাখো যাতে তোমরা মাইন্ডফুল হতে পারো” [১]
রোজা রেখে আমরা কিছু খাই না, কারণ, তখন আমরা মাইন্ডফুল থাকি,
“আরে আল্লাহ তো দেখতেছে”!
রামাদান শেষ হতে চললো
আশা করি আপনাদর এ কয়দিন মাইন্ডফুল এক্সারসাইজ ভালোই হলো
আশা করি নেক্সট টাইম এই এক্সারসাইসিটি বিভিন্ন ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করতে পারবেন
যেমন:
কাউকে নিয়ে মুখরোচক আলোচনায় বেস্ত আছেন? মাইন্ডফুলই বলুন, “আরে আল্লাহ তো দেখতেছে”
কারো বদনাম করছেন, মাইন্ডফুলই ভাবুন, আরে আল্লাহ তো দেখতেছে
ফাইল প্রোসেস করার জন্য, গিফট নিচ্ছেন, মাইন্ডফুলই ভাবুন, কেমনে নেই? আল্লাহ তো দেখতেছে
রাস্তায় হেটে যাওয়া সুন্দরিকে ঘুরে আরেক বার দেখতে ইচ্ছে করছে? মাইন্ডফুললি নিজেকে শাসন করুন, আরে বেটা, আল্লাহ তো দেখতেছে
রেগে গিয়ে কাউকে বাজে ভাষায় গালি দিচ্ছেন, নিজেকে শান্ত করে বলুন, কি করতেসি আল্লাহ তো দেখতেছে
দরজা বন্ধ করতেই গিল্টি প্লেসার পেয়ে বসলো, উস্কানি মূলক সাইটে যেতে ইচ্ছে করছে?
নিজের সাথে কথা বলুন, কেমনে যাই, আল্লাহ তো দেখতেছে!
পণ্য আটকিয়ে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন? ভাবুন, অরে বেটা! আল্লাহ তো দেখতেছে!
কারো নামে মিথ্যে বলে বেড়াচ্ছেন? চিন্তা করুন, কি যে করলাম, আল্লাহ তো দেখতেছে!
মাইন্ডফুল এক্সারসাইজটা আমরা অনেক ক্ষেত্রেই এপ্লাই করতে পারি এবং আপনিও যখন এটা প্রেকটিস করা স্টার্ট করবেন
দেখবেন আল্লাহর এক অন্য রকম ভালোবাসা পাওয়া স্টার্ট করছেন [নিজেস্ব উপলব্ধি]
এমনকি আপনাকে নিয়ে সপ্ত আসমানে তিনি জিব্রাইল আমিনের সাথে আলোচনাতেও বসবেন! [২]
জীবনে নেমে আসবে এক অন্য রকমেরে প্রশান্তি
কারণ তিনি নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন
“আমি মত্তাকীদের ভালোবাসি!!!” [৩]
রেফারেন্স:
[১] কোরান ২:১৮৩
[২] সহি বুখারী ৭৪৮৫
[২] কুরআন ৩:৭৬

Leave a Comment